কালোকেশী গাছের বৈজ্ঞানিক নাম | কালোকেশী গাছের উপকারিতা

কালোকেশী গাছের বৈজ্ঞানিক নাম অনেকে জানতে চান। এবং কালোকেশী গাছের উপকারিতা সম্পর্কে ও অনেক আছেন যারা জানেন এই না।কালোকেশী গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ও কালোকেশী গাছের উপকারিতা।

চুলের যত্নে কালোকেশী গাছের ভূমিকা কি আছে সেই সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা করা হবে আজকের আর্টিকেলটি তে।

সূচিপত্র: কালোকেশী গাছের বৈজ্ঞানিক নাম|কালোকেশী গাছের উপকারিতা 

কালোকেশী গাছ চেনার উপায়

কেশুতি, কেউতি, কালসাতা,কালোকেশী, কেশড়ে, কালোকশী, কেশঠি, কোশুতি, খেতুয়া, মইরচর, কালোকেশশিরিয়া, কালাহুনা,কেশার্ত, কেশরাজ, বাংড়া, কেসুরিয়া, কেশরঞ্জন, কেশরঞ্জক,কালসূতা বিভিন্ন স্থানীয় নামে পরিচিত।

কেশরাজ বর্ষজীবী গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। এর শাখা লতানো। এর শাখা থেকে প্রশাখা বের হয়। শাখা বা প্রশাখা বের হয় বিপরীতভাবে। লম্বায় ৫০ থেকে ৬০ সে.মি.। এর শাখা প্রশাখা এতটাই ভারী যে সেগুলো নিচের দিকে হেলানো থাকে। শাখা-প্রশাখার মত পাতাও বিপরীতভবে ভাবে বের হয়।কেশরাজের পাতা খুবই ছোট। গাঢ় সবুজ রঙের। লম্বায় ৪ থেকে ৫সে.মি,। পাতার কোল থেকে প্রশাখা বের হয়। এই প্রশাখার শেষ প্রান্তে ২/৩ টি ফুল ফোঠে।

ফুল সাদা। অনেক গুলো সাদা সাদা রঙের পরাগনালী। বৃতি পাচঁটি,সংযুক্ত। ফুল থেকে ফল হয়।ফল গাঢ় সবুজ। প্লটের মত। ফলের ভেতর অতি ক্ষুদ্র বীজ। বীজের খোসা শুকোনো মাটির মত। খোসার ভেতর ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কালো রঙের অসংখ্য বীজ থাকে। ফল ফেটে বীজ পড়ে চারা গজায়।কশরাজ উদ্ভিদের উপকারিতা হিসাবে পাতা, কাণ্ড, ফুল ও ফল ব্যবহার করা হয়। এই উদ্ভিদে এ্যালকোলয়েড স্টেরল, ইউডে লোল্যাকটোন, লিউটেইওলিন, গ্লাইকোসাইড, ট্রিটারপেন, গ্লাইকোসাইড এবং ফাইটেস্টেরল বিদ্যমান।

কালোকেশী গাছের বৈজ্ঞানিক নাম

বৈজ্ঞানিক নাম Eclipta alba, ইংরেজিতে False Daisy বলে। দেখতে অনেকটা ঠিক ঘাসফুলের মতো। বর্ষজীবী গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ।শাখা লতানো, শাখা থেকে প্রশাখা বের হয়।পতিত জমিতে কিংবা রাস্তায় গাছ টি জন্মে থাকে।

কালোকেশী গাছের উপকারিতা 

কেশরাজ উদ্ভিদের পাতা, কাণ্ড, ফুল ও ফল ব্যবহার করা হয়। পাতা বেঁটে রস তৈরি করে নিয়মিত মাথায় দিলে মাথা ঠান্ডা হয়, চুল পড়া বন্ধ করে এবং চুল ঘনকালো হয়। উদ্ভিদে এ্যালকোলয়েড স্টেরল, ইউডে লোল্যাকটোন, লিউটেইওলিন, গ্লাইকোসাইড, ট্রিটারপেন, গ্লাইকোসাইড এবং ফাইটেস্টেরল বিদ্যমান।কেটে যাওয়া স্থানে কেশরাজের পাতা বেটে পেস্ট বানিয়ে লাগালে সঙ্গে সঙ্গে রক্ত পড়া বন্ধ হয় এবং ক্ষতস্থান দ্রুত শুকিয়ে যায়।

পাতা বেটে খেলে কৃমি নাশ ও কাশি উপশম হয়।চুলের যত্নে মানুষ প্রাচীনকাল থেকে যে ভেষজটি ব্যবহার করে আসছে তার নাম কেশরাজ বা কালোকেশী। ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বত্রই এ গাছটি পাওয়া যায়। সাধারণত পুকুর ধারে, বনে-জঙ্গলে এই গাছটি বেশি জন্মে। গাছটি গুল্ম জাতীয় গাছ। বাংলাদেশ, ভারত, চীন, থাইল্যান্ড এবং ব্রাজিলে বেশি পাওয়া যায়। 

কেশরাজ পাতার ব্যবহার 

শরীরের কেটে যাওয়া স্থানে কেশরাজের পাতা বেটে পেস্ট বানিয়ে লাগালে সঙ্গে সঙ্গে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে কাটা স্থানের ক্ষত শুকিয়ে যায়।

মাথা ব্যথা সূর্যোদয়ের পর অনেকের মাথায় যন্ত্রণা হয়। এতে তারা কেশরাজের রস দুই ফোঁটা নাকের ভিতরে ও কপালে মালিশ করলে ব্যথা দূর হয়।

লিভার ও কিডনী, লিভারের সুরক্ষায় কেশরাজে বিদ্যমান অ্যামিডোপাইরিন এন-ডিমথাইলিন গ্লুকোজ-৬ ফসফেটের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে লিভার এ্যাবসেস, লিভার সিরোসিস, লিভারের প্রদাহ, জন্ডিস দূর করতে সাহায্য করে। লিভার টনিক হিসেবে কাজ করে।

কালোকেশী কোন রোগের ঔষধ

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ২ চা চামচ পরিমাণ কেশরাজের রস সেবন করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। কেশরাজের রস ব্লাড সুগার লেভেল ও গ্লাইকোসাইলেটেড হিমোগ্লোবিন এর পরিমাণ কমায় এবং গ্লুজোজ-৬ ফসফেট এবং ফ্রুকটোজ ১, ৬ ডাইফসফেট এর কার্যকারিতা কমায় ও লিভারের হেক্রোকিনেজ এর কার্যকারিতা বাড়ায়।

কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র সুরক্ষা সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে কেশরাজের নির্যাস কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপ্ত করে।

ক্যান্সার, ইথনোফার্মাকোলজি পত্রিকার জার্নাল স্টাডিজ দেখায় যে কেশরাজ ক্যান্সার কোষগুলিকে মেরে ফেলতে সক্ষম হয়েছিল।

চুলের যত্নে কালোকেশী

কেশরাজের কাঁচা পাতা বেটে রস তৈরী করে মাথায় ঘষে ঘষে লাগাতে হবে, এরপর কেশরাজের মিশ্রন চুলে শুকিয়ে আসলে, পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এছারা ২৫০ এম এল তিল/নারিকেল তেলের সাথে এক কাপ কেশরাজের কাঁচা রস, তার সাথে আমলকি১টি, জবাফুল১টি, কারিপাতা ৪-৫ টি, ১ চা চামচ মেথী দানা একসংগে মিশিয়ে ফুটিয়ে নিয়ে ঠান্ডা করে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ছেকে কাঁচের বোতলে সংগ্রহ করে রাখা যায়। তৈরীকৃত মিশ্রনটি মাথায় মালিশ করলে মাথা ঠাণ্ডা হবে, চুল পড়া বন্ধ হবে, চুল লম্বা ও কালো হবে।

উকুননাশক কেশরাজের পাতার রস চুলের গোড়ায় লাগান। এরপর একটি পাতলা কাপড় মাথায় পেঁচিয়ে রাখুন। এক ঘণ্টা পর চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দু বার এটা করুন। এক মাসের মধ্য চুল হবে উকুনমুক্ত।

কেশরাজ ব্যবহারে সতর্কতা

  • কেশরাজ গর্ভের সন্তানের জন্য বিষাক্ত হতে পারে। সন্তান বুকের দুধ খাওয়ানোর বয়সে কেশরাজ এড়িতে চলা উচিত।
  • এলার্জির লক্ষন দেখা দিলে কেশরাজ খাওয়ানো যাবে না।
  • আপনার রক্তচাপ ইতিমধ্যে খুব কম হলে, এটি গ্রহন না করাই ভাল।
  • হার্ট বা কিডনি সমস্যার কারণে কেমোথেরাপির মাধ্যমে যাচ্ছে তারা কেশরাজ ব্যবহার করবেন না।
  • যদি আপনার টাইপ ২ ডায়াবেটিস থাকে, তবে কেশরাজ এড়িতে চলা উচিত।
কেশরাজ এমন একটি উপকারী গাছ তাকে আমরা অবহেলায় পায়ে ঠেলে ফেলি। কিন্তু এই অবহেলিত গাছের এই কোন শেষ নেই উপকারিতা।আশা করছি আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন কালোকেলী গাছের উপকারিতা সম্পর্কে। আজকের মতো এতোটুকুই আবার আসব নতুন কিছু নিয়ে ততদিন পর্যন্ত ভালো থাকবেন ধন্যবাদ।16056
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url