গর্ভাবস্থায় স্যালাইন খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পরুন

গর্ভাবস্থায় স্যালাইন খাওয়ার উপকারিতা আছে কি না সেটা অনেকের প্রশ্ন। গর্ভাবস্থায় স্যালাইন খাওয়ার উপকারিতা অনেকে মনে করেন আছে আবার অনেকে মনে করেন গর্ভাবস্থায় স্যালাইন খাওয়ার উপকারিতা নেই।

আজকের আর্টিকেলটি তে আমরা জানবো গর্ভাবস্থায় স্যালাইন খাওয়ার উপকারিতা ও গর্ভাবস্থায় স্যালাইন খাওয়া যাবে কি না সেই সম্পর্কিত বিস্তারিত।

সূচিপত্র: গর্ভাবস্থায় স্যালাইন খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পরুন 

স্যালাইন খাওয়ার উপকারিতা

আমরা প্রায় সবাই জানি যে স্যালাইন কেন খাওয়া হয় এবং স্যালাইন খাওয়ার উপকারিতা কি। তবুও আবার এই বিষয়টি পরিষ্কার করে বলছি।

ডায়রিয়া হলে স্যালাইন খেতে হয়,এ কথাটি আমরা প্রায় সবাই জানি। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে শরীর পানি ও লবণ হারায়। খাওয়ার স্যালাইন সেই পানি-লবণের ঘাটতি পূরণ করে। কিন্তু উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের রোগীরা অনেক সময় এই খাওয়ার স্যালাইন খাবেন কি না তা নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন। কেননা তাঁদের লবণ কম খেতে চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি গ্লুকোজ বা চিনি খেতেও নিষেধ করেন। কিন্তু খাওয়ার স্যালাইনের প্যাকেটে তো লবণ ও গ্লুকোজের মিশ্রণ থাকে।

খাওয়ার স্যালাইনে পানি, সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও গ্লুকোজ বা শর্করা থাকে। এখানে গ্লুকোজের প্রধান কাজ, অন্ত্রে লবণ শোষণে সাহায্য করা। প্রতি লিটার খাওয়ার স্যালাইনে গ্লুকোজের পরিমাণ ২০ গ্রামের বেশি নয় এবং এর প্রায় পুরোটাই অন্ত্রে লবণ শোষণে ব্যবহৃত হয়ে যায়। তাই ডায়রিয়ায় স্যালাইন খেলে ডায়াবেটিসের রোগীর রক্তে শর্করা বাড়বে এমন ধারণা ঠিক নয়। এ ক্ষেত্রে স্যালাইন মূলত লবণের ঘাটতি পূরণ করার কাজে ভূমিকা রাখে। শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্ম বজায় রাখতে লবণের ভারসাম্য রক্ষা করাটা খুবই জরুরি। আর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে আমরা প্রচুর লবণ হারাই। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীরও ডায়রিয়া হলে স্যালাইন খেতে হবে, এতে লবণের আধিক্য হবে না বা রক্তচাপও বাড়বে না।

ডায়রিয়া হলে স্যালাইন খাওয়ার মাধ্যমে পানি-লবণের ঘাটতি দ্রুত পূরণ না করলে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়বে, লবণের অভাবে নিস্তেজ হয়ে পড়বে। পানিশূন্যতা থেকে কিডনি অকার্যকারিতাও হতে পারে। যেসব ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীর আগে থেকেই কিডনিতে সামান্য সমস্যা আছে, ডায়রিয়ায় তাঁদের আরও বেশি জটিলতা হতে পারে। তাই ডায়রিয়া হলে সবাইকেই স্যালাইন খেতে হবে। এ নিয়ে কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ্বের অবকাশ নেই। ডায়াবেটিসের রোগীরা সেই সঙ্গে বারবার রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করে দেখবেন ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা রক্তচাপ মেপে দেখে নিবেন।

গর্ভাবস্থায় স্যালাইন খাওয়ার উপকারিতা

ডিহাইড্রেশন (পানিশূন্যতা) এড়াতে গর্ভাবস্থায় অন্যান্য তরল খাবারের পাশাপাশি স্যালাইনও পান করতে পারবেন।এতে কোনো সমস্যা নিই। গর্ভাবস্থায় অনেক সময় পানিশূন্যতা দেখা দেয় তখন ওষুধের পাশাপাশি স্যালাইন ও খাওয়া যাবে তাতে করে পানিশূন্যতা অনেকটাই কমে আসতে পারে এবং গর্ভাবস্থায় স্যালাইন খাওয়ার উপকারিতা হিসেবে এটা কিন্তু অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।সেই সাথে একজন গর্ভবতী কে প্রশান্তি ও দিতে পারে এই স্যালাইন।

সেই জন্য যখন এই পানিশূন্যতা দেখা দিবে তখন এই স্যালাইন খেয়ে নিতে পারেন নিশ্চিন্তে।এতে করে গর্ভাবস্থায় স্যালাইন খাওয়ার খাওয়ার উপকারিতা অনেক।

গর্ভাবস্থায় স্যালাইন খাওয়া যাবে কিনা

অবশ্যই গর্ভাবস্থায় স্যালাইন খাওয়া যাবে। গর্ভাবস্থায় স্যালাইন খাওয়ার সবচেয়ে বড় কারন এই হচ্ছে গর্ভাবস্থায় পানিশূন্যতা।আর আমরা সবাই জানি যে স্যালাইন এর উপকারিতাই হলো পানিশূন্যতা থেকে বাঁচায়।আর গর্ভাবস্থায় পানিশূন্যতা অনেক বেশি দেখা দেয়।তাই এই কথা তো চোখ বন্ধ করে বলা যায় যে গর্ভাবস্থায় স্যালাইন খাওয়া যাবে।

স্যালাইন খাওয়ার সতর্কতা

কোনোভাবেই পানির পরিমাণ কম বেশি করা যাবে না, এক্ষেত্রে আসল ফলাফল তো পাওয়া যাবেই না, বরং শিশুদের ক্ষেত্রে ক্ষতিও হতে পারে।কোনোভাবেই স্যালাইনে পানি ছাড়া অন্য কিছু যেমন দুধ, স্যুপ বা ফলের জ্যুস বা সফট ড্রিংকসেও মেশানো যাবে না। এমনকি চিনিও মেশানো যাবে না।শিশুদের ক্ষেত্রে স্যালাইন কাপে করে খাওয়ানোই ভালো।গরম পানিতে স্যালাইন বানানো যাবে না। স্যালাইনের পানিও গরম করা যাবে না।বানানোর পর ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্যালাইন ভালো থাকে। অর্থাৎ বানানোর ১২ ঘণ্টা পর আর স্যালাইন খাওয়া যাবে না, সেটি ফেলে দিতে হবে।

স্যালাইনের ব্যবহার 

তাৎক্ষণিক শরীর দুর্বলতার ক্ষেত্রে গ্লুকোজ খেলে কাজ হয়। কিন্তু স্যালাইন খেলে দুর্বলতা অনেকটা দূর হয়। কারণ স্যালাইনে সোডিয়াম ক্লোরাইডের পাশাপাশি গ্লুকোজও থাকে।অনেকের লো প্রেশারের বা নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা থাকে। অনেক সময় তাদের রক্তচাপ স্বাভাবিক তুলনায় অনেক কমে যায়। এটা মূলত রক্তে সোডিয়াম আয়নের অভাবে হয় এবং এরফলে হার্ট বা হৃদপিণ্ড পাম্প করার পর্যাপ্ত শক্তি পায় না।

এক্ষেত্রে স্যালাইন খেলে তাৎক্ষণিক ভাবে রক্তে সোডিয়াম আয়নের অভাব পূরণ হয় এবং রক্তচাপ স্বভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। কারোর যদি প্রেশার বা রক্তচাপ বেশি কমে যায়, তবে তাকে সাথে সাথে এক গ্লাস স্যালাইন খাইয়ে দিতে পারেন। এতে তাৎক্ষণিকভাবে উপকার পেতে পারেন। আজকের মতো এতোটুকুই আবার আসব নতুন কিছু নিয়ে ততদিন পর্যন্ত ভালো থাকবেন ধন্যবাদ।16056

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url