টেস্টটিউব বেবি কি | টেস্টটিউব বেবি কিভাবে হয়

টেস্টটিউব বেবি কি এই বিষয়টি হয়তো বা আজ ও কেউ ভালো ভাবে জানেন না। টেস্টটিউব বেবি কি সেটা সবার জন্য জানা দরকার। টেস্টটিউব বেবি কি এবং এই টেস্টটিউব বেবি কিভাবে হয় সেই সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা করা হবে আজকের আর্টিকেলটি তে।

সূচিপত্র: টেস্টটিউব বেবি কি|টেস্টটিউব বেবি কিভাবে হয়

টেস্টটিউব বেবি কি

সন্তান জন্মদানে অক্ষম দম্পতির দেহ থেকে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু সংগ্রহ করে কৃত্রিম পরিবেশে টেস্টটিউবের ভেতর নিষিক্ত করে পুনরায় স্ত্রীদেহের জরায়ুতে স্থাপন করার পর স্বাভাবিক নিয়মে যে সন্তান জন্মগগ্রহণ করে তাকে টেস্টটিউব বেবি বলা হয়।

টেস্ট টিউব বেবি কেন নেয়া হয়?

পুরুষ বা মহিলা দুজনের একজন বা উভয়ে সন্তান উৎপাদনে অক্ষম হলে টেস্টটিউব বেবি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়া হয়।

টেস্ট টিউব বেবি বলতে কি বুঝায়?

টেস্টটিউব বেবি আসলে ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন(IVF) এর সহজ ও সর্বজনবোধ্য সংক্ষিপ্ত রূপ। "ইন-ভিট্রো" শব্দটি লাতিন ভাষা থেকে এসেছে। "ইন-ভিট্রো" শব্দের অর্থ করলে হয় ইন=ভেতরে+ভিট্রো=কাঁচ নল,পূর্ণ অর্থ কাচনলের ভেতর। যেহেতু কাচের টেস্টটিউব এর মধ্যে কৃত্রিম উপায়ে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর নিষেক ঘটানো হয় সেহেতু একে সহজভাবে টেস্টটিউব পদ্ধতি বলে।

টেস্টটিউব বেবি নেওয়ার কারণ

পুরুষদের ক্ষেত্রে

  • একবার বির্যপাতে অন্তত ২৫ মিলিয়ন শুক্রাণু না থাকলে পুরুষদের সন্তান জন্ম দেয়া সম্ভব হয় না।
  • শুক্রাণুর চলার গতি কম থাকলে এগুলো ডিম্বনালিতে নিষেকের জন্য পৌছাতে পারে না।
  • অণ্ডকোষে স্পার্ম তৈরি হলেও তা বের হয়ে না আসা, যাকে অ্যাজোস্পার্মিয়া বলে।
  • ওলিগোস্পার্মিয়া হলে।
মেয়েদের ক্ষেত্রে
  • ডিম্বনালিতে প্রতিবন্ধকতা থাকলে শুক্রাণু নিষিক্ত করার জন্য ডিম্বানুর কাছে পৌছাতে পারেনা ফলে গর্ভধারণ সম্ভব হয় না।
  • জরায়ুতে ফাইব্রয়েড-জাতীয় টিউমার বা এন্ডোমেট্রোয়েসিস জাতীয় রোগ থাকলে।
  • ডিম্বাশয় বা ওভারিতে সিস্ট বা ওভারিয়ান ফেইলিউর হলে।

টেস্টটিউব বেবি কিভাবে হয়

মাসিক বা পিরিয়ডের ২১তম দিন থেকে বা প্রথম দিন থেকে একনাগাড়ে ১০-১৫ দিন স্ত্রীকে FSH বা ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমােন ও GnRH বা গোনাডোট্রোফিন রিলিজিং হরমোন ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়।GnRH হরমোনের প্রভাবে ডিম্বাশয়ের বিভিন্ন কোষ যারা ডিম্বাণু উৎপাদন কাজে অংশগ্রহণ করে তারা কাজ শুরু করার জন্য উত্তেজিত হয় এবং ডিম্বাণু তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন হরমোন ক্ষরণ করতে শুরু করো।FSH হরমোনের প্রভাবে ডিম্বাশয়ের ভেতর অবস্থিত অপক্ক ডিম্বাণু কোষ বা ফলিকল কোষ ডিম্বাণু সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু করে। এরপর ডিম্বাশয়ের ফলিকলগুলো পরীক্ষা করার জন্য আলট্রাসনােগ্রাফি (Ultrasonography-USG) ও ব্লাড টেস্ট করা হয়।

ধাপ ২: ডিম্বাণু পরিপক্ক করা
দ্বিতীয় ধাপে পূর্বোক্ত পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে প্রথম ইনজেকশনের সাথে hCG বা হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রোফিন হরমোন পুশ করা হয়। এই হরমোন গুলোর প্রভাবে ইস্ট্রোজেন হরমোন ক্ষরিত হয় এবং পরিপক্ব ডিম্বাণু তৈরি হয়। ডিম্বাণু পরিপক্ব হলে ১ম ও ২য় ইনজেকশন দুটো বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২৪ ঘণ্টা পর LH হরমােন ইনজেকশন দেওয়া হয়। এই হরমোনের প্রভাবে ডিম্বাণু পরিপক্ক হয়ে নিষেকের জন্য 
প্রস্তুত হয়।

ধাপ ৩: ওভাম বা ডিম্বাণু কালেকশন
তৃতীয় ইনজেকশন দেওয়ার ৩৪-৩৬ ঘণ্টার মধ্যে আলট্রাসনােগ্রামের মাধ্যমে ডিম্বাশয় পর্যবেক্ষণ করে ল্যাপারােস্কোপির সাহায্যে তলপেটে ছোট্ট ছিদ্র করে সূক্ষ্ম মাইক্রোইনজেকশন দ্বারা ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়।অনেকসময় ছোট্ট অপারেশনের মাধ্যমে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়। এই সময় স্ত্রীকে অজ্ঞান করে নেওয়া হয় অথবা ঘুমের ওষুধ খাওয়ানাে হয়।

ধাপ ৪: স্পার্ম কালেকশন
টেস্ট টিউব বেবি প্রসেস শুক্রাণু সংগ্রহ
জীবাণুমুক্ত একটি পাত্রে স্বামীর শুক্রাণু বা স্পার্ম সংগ্রহ করা হয়। শুক্রাণুর কোন ত্রুটি থাকলে তা দূর করা হয়।গবেষণাগারে শুক্রাণুকে বিভিন্ন ওষুধ
দিয়ে পরিষ্কার করা হয়।সংগৃহীত শুক্রাণুকে উপযুক্ত পরিবেশে সংরক্ষণ করা হয় যাতে এদের মৃত্যু না ঘটে।

ধাপ ৫: নিষিক্তকরণ
একটি টেস্টটিউব বা অন্য কোন সুবিধামতাে মাধ্যমে (media) সংগৃহীত ডিম্বাণুর সাথে শুক্রাণুকে একটি টেস্টটিউবে নিয়ে ইনকিউবিটারে ২৪-৪৮ ঘণ্টা রেখে দেওয়া হয়।এ অবস্থায় ইনভিট্রোতে নিষেক ঘটবে এবং ক্লিভেজ চলতে থাকবে এবং নিষিক্ত ডিম্বাণু প্রাথমিক ভ্রূণে পরিণত হতে থাকবে। শুক্রাণুর নিষিক্তকরণ ও চলার ক্ষমতা কম থাকলে এভাবে নিষিক্ত হয় না তখন Intracytoplasmic sperm injection (ICSI) পদ্ধতির সাহায্য নেয়া হয়।এ প্রক্রিয়ায় ইনজেকশনের মাধ্যমে ডিম্বাণুর সাইটোপ্লাজমে শুক্রাণুর নিউক্লিয়াস প্রবেশ করানো হয়। বয়স্ক বা বেশ কয়েকবার বিফল হওয়া মহিলাদের ক্ষেত্রে Assisted hatching এর সাহায্য নেয়া হয়।

ধাপ ৬ : ভ্রূণ প্রতিস্থাপন
ভ্রূণ প্রতিস্থাপন টেস্ট টিউব বেবি প্রসেস
টেস্ট টিউব বেবি প্রসেস ভ্রূণ প্রতিস্থাপন
এই পর্যায়ে জরায়ুতে ভ্রুণ প্রতিস্থাপন করতে হবে। ৪৮ ঘণ্টা পর স্ত্রীর বয়সের অনুপাতে ৪-৮ কোষাবশিষ্ট ২-৩টি সর্বোত্তম ভ্রূণ স্ত্রীর জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। একটি ক্যাথেটারের মাধ্যমে যোনিপথের ভেতর দিয়ে জরায়ুতে ভ্রূণ স্থানান্তর করা হয়।এটি খুব সহজ ও ব্যথামুক্ত পদ্ধতি।একটু সিডেটিভ প্রয়োগ করলেই চলে স্ত্রীকে অজ্ঞান বা অচেতন করার প্রয়ােজন পড়ে না। ভ্রূণ জরায়ুর ভেতরের প্রাচীরে বা এন্ডোমেট্রিয়ামে দৃঢ়ভাবে যুক্ত হয় একে ইমপ্লান্টেশন বলে।ইমপ্লান্টেশন এর পরে ৯-১২ সপ্তাহের মধ্যে প্লাসেন্টা বা অমরা সৃষ্টি হয়।
ভ্রূণ অমরার মাধ্যমে খাদ্যগ্রহণ শুরু করে। এরপর সময়ের সাথে সাথে ভ্রূণ একটি পূর্ণাঙ্গ মানব শিশুতে পরিণত হয়। জরায়ুতে ভ্রুণ ভালোভাবে বেরে উঠার জন্য প্রজেস্টেরণ,ইস্ট্রোজেন, hCG হরমোনের কৃত্রিম ডোজ প্রয়োগ করা হয়।

ধাপ ৭: পরিচর্যা
টেস্ট টিউব বেবি প্রসেস গর্ভবতী মায়ের পরিচর্যা
টেস্ট টিউব বেবি প্রসেস গর্ভবতী মায়ের পরিচর্যা
সবক’টি ধাপ শেষে ১৫ দিন পর রক্ত পরীক্ষা করা হয়। ফলাফল পজিটিভ হলে আরও ১৫ দিন পর ইউএসজি (USG) করে গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। পুরাে প্রক্রিয়াটি চলাকালীন সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে যেমন:
  • হাসিখুশি ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে হবে।
  • পুষ্টিকর খাবার খেতে হব
  • ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • ভাঙ্গা রাস্তা যেখানে প্রচুর ঝাঁকুনি হয় সেখানে যানবাহনে উঠা যাবে না।
  • ভারিকাজ একদম করা যাবে না
  • যৌনসংগম যতটা সম্ভব পরিহার করতে হবে।
  • টেস্ট টিউব বেবির সমস্যা
  • একাধিক ডিম্বাণু জরায়ুতে স্থাপন করার কারণে ২-৩ বাচ্চার জন্ম হতে পারে।
  • গর্ভপাতের সম্ভাবনা বেশি থাকে।
  • ডিম্বনালিতে এক্টোপিক প্রেগনেন্সি হতে পারে।
  • কৃত্রিম হরমোন ব্যবহারের ফলে প্রজনন ক্ষমতা চিরতরে নষ্ট হতে পারে।
  • ডিম্বাণু সংগ্রহের সময় সূচের আঘাতে ইন্টারনাল রক্ত ক্ষরণ হতে পারে।
  • ইনফেকশন ঘটার সম্ভাবনা থাকে।
  • জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার হতে পারে।
  • জন্ম নেয়া সন্তান বিভিন্ন জটিলতায় ভুগতে পারে।
এই ধাপগুলোর মাধ্যমেই একটি টেস্টটিউব বেবি হয়। আশা করি বুঝতে পেরেছেন টেস্টটিউব বেবি কিভাবে হয়। এবার জানবো ইসলাম কি বলে এই টেস্টটিউব বেবি কি হারাম না কি ইসলাম ও সমর্থন করে, চলুন জেনে নেয়া যাক টেস্টটিউব বেবি কি হারাম সেই সম্পর্কিত কিছু তথ্য।

টেস্টটিউব বেবি কি হারাম?

ইসলামের দৃষ্টিতে সন্তান বৈধ হওয়ার জন্য শর্ত হলো, বৈধ বিয়ের মাধ্যমে যৌনমিলন থেকে সন্তানের জন্মগ্রহণ। এ প্রসঙ্গে নবী করিম (সা.) বলেন, ‘সন্তান তারই, যার সঙ্গে (বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে) ফিরাশ বা শয্যাযাপন হয়। আর ব্যভিচারকারীর জন্য রয়েছে পাথর।’ (বুখারি, হাদিস : ২০৫৩)

সন্তানের বৈধ পিতৃত্বের স্বীকৃতির জন্য তার মা-বাবার বৈধ বিয়ে অপরিহার্য। এই বৈধ বিয়ের মাধ্যমে সংঘটিত মিলনের ফসল হিসেবে যে সন্তান জন্ম নেবে, তা হবে ওই পুরুষের সন্তান। কারণ যৌনমিলনের মাধ্যমে সাধারণত পুরুষের বীর্য স্ত্রীর জরায়ুতে প্রবিষ্ট হয়। আর তা থেকেই জন্ম নেয় সন্তান। এটাই প্রাচীনকাল থেকে সন্তান জন্ম দানের রীতি। আধুনিককালে অবশ্য যৌনমিলন ছাড়াও স্বামীর বীর্য স্ত্রীর জরায়ুতে স্থাপনের কৃত্রিম ব্যবস্থা মানুষ অবিষ্কার করেছে। বর্তমান যুগে এ কারণে যৌনমিলন ছাড়াও সন্তান জন্ম নিচ্ছে। কৃত্রিম গর্ভ সঞ্চারের নব-আবিষ্কৃত এ পদ্ধতির নাম টেস্টটিউব।
টেস্টটিউবে গর্ভ সঞ্চার করে তা মানব জরায়ুতে স্থাপন করা ইসলাম অবৈধ মনে করে না। তবে ইসলাম এ ক্ষেত্রে সে সন্তানকে বৈধ সন্তান বলে স্বীকৃতি দানের জন্য নিম্নোক্ত শর্তগুলো আরোপ করে।

১. বীর্য ও ডিম্বাণু অবশ্যই স্বামী ও স্ত্রীর কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হবে, অন্য কোনো পুরুষ ও নারীর কাছ থেকে বীর্য ও ডিম্বাণু সংগ্রহ করে তা দ্বারা গর্ভ সঞ্চার করা যাবে না।


২. টেস্টটিউবে সঞ্চারিত ভ্রূণ অবশ্যই স্ত্রীর জরায়ুতে স্থাপন করতে হবে, অন্য কোনো মহিলার জরায়ুতে তা স্থাপন করা যাবে না।
৩. স্বামীর বীর্য ও স্ত্রীর ডিম্বাণু নিয়ে টেস্টটিউবে গর্ভ সঞ্চারের বিষয়টি অবশ্যই স্বামীর জীবদ্দশায় হতে হবে। স্বামীর মৃত্যুর পর বীর্যব্যাংকে রক্ষিত তার বীর্য দ্বারা কিছুতেই গর্ভ সঞ্চার করা যাবে না।এ প্রসঙ্গে বিগত ৮-১৩ সফর, ১৪০৭ হিজরি মোতাবেক ১১-১৬ অক্টোবর ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে জর্দানের রাজধানী আম্মানে অনুষ্ঠিত ওআইসির ফিকহ একাডেমির অধিবেশনে গৃহীত সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে।

কৃত্রিম গর্ভ সঞ্চার (টেস্টটিউব বেবি) প্রসঙ্গে পঠিত প্রবন্ধ এবং এ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের বক্তব্য শোনা এবং সামগ্রিকভাবে এ বিষয়ে জানার পর অধিবেশনের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে বর্তমান যুগে কৃত্রিম গর্ভ সঞ্চারের সাতটি পদ্ধতি রয়েছে। অধিবেশন এ প্রসঙ্গে নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তাবলি গ্রহণ করছে

টেস্টটিউব বেবি অবৈধ পদ্ধতি

নিম্নোক্ত পাঁচটি পদ্ধতি শরিয়তের দৃষ্টিতে হারাম ও সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। কারণ এর ফলে পিতৃৎপরিচয় ও মাতৃপরিচয় উভয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো ইসলামী শরিয়তবিরোধী বিষয় রয়েছে।

১. স্বামীর কাছ থেকে সংগৃহীত বীর্য ও অন্যের স্ত্রীর কাছ থেকে সংগৃহীত ডিম্বাণুর মাধ্যমে ভ্রূণ সৃষ্টি করে পরে তা স্ত্রীর জরায়ুতে স্থাপন করা।

২.কোনো পরপুরুষের বীর্য এবং স্ত্রীর ডিম্বাণু নিয়ে ভ্রূণ সৃষ্টি করে পরে তা স্ত্রীর জরায়ুতে স্থাপন করা।

৩. স্বামীর বীর্য ও স্ত্রীর ডিম্বাণু নিয়ে ভ্রূণ সৃষ্টি করে পরে তা অন্য কোনো নারীর জরায়ুতে স্থাপন করা।

৪. পরপুরুষের বীর্য ও পরস্ত্রীর ডিম্বাণু নিয়ে বাইরে (টেস্টটিউবে) ভ্রূণ সৃষ্টি করে পরে তা স্ত্রীর জরায়ুতে স্থাপন করা।

৫. স্বামীর বীর্য ও স্ত্রীর ডিম্বাণু নিয়ে তা দ্বারা বাইরে (টেস্টটিউবে) ভ্রূণ সৃষ্টি করে পরে তা স্বামীর অন্য স্ত্রীর জরায়ুতে স্থাপন করা।

৬ ও ৭ পদ্ধতি, এ দুটি পদ্ধতি প্রয়োজনে অবলম্বন করা যেতে পারে, অবশ্য এ পদ্ধতিদ্বয় অবলম্বন করার সময় সব সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। পদ্ধতি দুটি হলো
৬. স্বামীর বীর্য ও স্ত্রীর ডিম্বাণু সংগ্রহ করে বাইরে টেস্টটিউবে তা দ্বারা গর্ভ সঞ্চার করে অতঃপর তা স্ত্রীর জরায়ুতে স্থাপন করা।

৭. স্বামীর বীর্য সংগ্রহ করে তা সিরিঞ্জ দ্বারা তার স্ত্রীর জরায়ু বা ডিম্ববাহী নালিতে প্রবিষ্ট করে জরায়ুর অভ্যন্তরে গর্ভ সঞ্চার করা। (মুজাল্লাতুল মাজমা, সংখ্যা-৩, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৪২৩, সিদ্ধান্ত নম্বর-১৬ (৩/৪)

আজকের আর্টিকেলটি এতোটাই ছিলো টেস্টটিউব বেবি কি তা নিয়ে। আশা করছি আপনারা সবাই ভালো ভাবে জানতে পেরেছেন টেস্টটিউব বেবি সম্পর্কে। আবার আসব নতুন কিছু নিয়ে ততদিন পর্যন্ত ভালো থাকবেন ধন্যবাদ।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url