তোকমা খাওয়ার উপকারিতা | তোকমা দানা খাওয়ার নিয়ম

তোকমা খাওয়ার উপকারিতা কি?এটা অনেকে জানেন আবার জানেন না। আজকের আর্টিকেলটি তে আমরা জানবো তোকমা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে এবং তোকমা খাওয়ার উপকারিতার সাথে সাথে তোকমা খাওয়ার নিয়ম তোকমা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবো।

চলুন জেনে নিই তোকমা খাওয়ার উপকারিতা কি।

সূচিপত্র: তোকমা খাওয়ার উপকারিতা|তোকমা দানা খাওয়ার নিয়ম

তোকমা কি?

কালো রঙের ছোট একটি বীজ হলো তোকমা, যা মূলত বিভিন্ন মিষ্টি পানীয় কিংবা শরবত তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায়ও অন্যতম তোকমা বীজ একটি উপাদান। এটি স্থানভেদে সবজা বীজ, মিষ্টি বাসিল, ফালুদা বীজ কিংবা তুর্কমারিয়া বীজ হিসেবে পরিচিত। বহু গুণ রয়েছে এই তোকমা বীজটির।
তোকমা এক প্রকার গুল্ম জাতীয় সপুষ্পক উদ্ভিদ। একে 'বিলাতি তুলসি', 'গাঞ্জা তুলসি' ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়।

তোকমার আদি নিবাস মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার ক্রান্তীয় অঞ্চল। এটি সাধারণতঃ ১-১.৫ মি (৩.৩-৪.৯ ফু) লম্বা হয়,কখনও কখনও এটি ৩ মি (৯.৮ ফু) পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এর কান্ড রোমশ এবং প্রস্থচ্ছেদ বর্গাকার। এর পাতা দ্বি-পার্শ্বীয়, ২-১০ সেমি (০.৭৯-৩.৯৪ ইঞ্চি) লম্বা, কিনারা অগভীর খাঁজকাটা। পাতা থেঁতলানো হলে উগ্র গন্ধ বের হয়।তোকমার ফুল বেগুনি বা গোলাপি, গুচ্ছফুল।

তোকমা খাওয়ার উপকারিতা

রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করতে কার্যকর হচ্ছে তোকমা। মূলত দেহের বিপাকক্রিয়া ধীর করে দেয় তোকমা খাওয়ার ফলে। এবং কার্বোহাইড্রেটকে গ্লুুকোজে রূপান্তরের পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। এ কারণে টাইপ টু ডায়াবেটিস যাঁদের রয়েছে, তারা এটি নিয়মিত খেতে পারেন তাতে ভালো ফলাফল পাবেন আশা করছি।

এসিডিটির মতো বড় সমস্যা দূর করতেও কার্যকর তোকমা।তোকমা খাওয়ার পর পেটের এসিড নিয়ন্ত্রণ করে জ্বালাপোড়া দূর করে। এ জন্য পানিতে সামান্য তোকমা বীজ ভিজিয়ে রেখে পান করতে হবে। তোকমার বীজ পানিতে পরিপূর্ণ থাকে, যা দেহের ক্ষতিকর পদার্থও দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

তোকমা বীজে রয়েছে ঠাণ্ডা প্রতিরোধী উপাদান।তোকমা আপনার দেহকে ঠাণ্ডার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়তে সহায়তা করবে। সর্দি-কাশি থেকে দূরে থাকতে চাইলে অবশ্যই নিয়মিত তোকমা খেতে হবে।
দেহের ওজন কমাতে তোকমা বীজের জুড়ি নেই। পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলেই তোকমা বীজটি ফুলে ওঠে। এরপর সেই পানি কিংবা নানা মসলা দিয়ে তা সুস্বাদু করে পান করা যায়। তোকমার ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড দেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এ ছাড়া তোকমার নানা উপাদান দেহের চর্বি কমাতে সহায়তা করে। এতে রয়েছে প্রচুর আঁশ, যা বাড়তি ক্ষুধা দূর করে এবং পেট দীর্ঘক্ষণ পরিপূর্ণ থাকার অনুভূতি দেয়।

তোকমা খাওয়ার নিয়ম 

দেহের তাপ কমায় তোকমা।তোকমা গরমকালে দেহের তাপমাত্রা কমাতে সহায়তা করে। আর এ কারণে গরম আবহাওয়ার দেশগুলোতে বহু মানুষ তোকমার শরবত পান করে। এটি সুস্বাদু করার জন্য চিনি, মধু এবং কোথাও কোথাও নারিকেল দুধ দিয়ে ও‌ খায়।

কোষ্টকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে খুবই কার্যকর তোকমা। সামান্য তোকমা অল্প পানিতে ভিজিয়ে রেখে কিছুক্ষণ পর তা দুধে মিশিয়ে খেলেও উপকার পাওয়া যায়।তোকমা হজমের সমস্যাও দূর করতে সহায়তা করে।

সুস্থ ত্বক ও চুল ত্বকের নানা সমস্যায় তোকমা ব্যবহার করা যায়। এ জন্য কিছু তোকমা বীজ গুঁড়ো করে তা নারিকেল তেলের সঙ্গে মাখিয়ে ত্বকে লাগাতে হয়। এটি নানা চর্মরোগ নিরাময়ে কাজ করে। এটি একজিমা ও সোরিয়াসিস নিরাময়ে কার্যকর। সুস্থ চুলের জন্য এটি নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে।

তোকমা খাওয়ার সতর্কতা

সতর্কতা গর্ভবতী নারীদের দেহের ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে তোকমা। তাই গর্ভবতী নারী ও শিশুদের তোকমা খাওয়া উচিত নয়। ভালোভাবে পানিতে গুলিয়ে না খেলে এটি পেটে ফুলে যেতে পারে। এতে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, এমনকি শিশুদের শ্বাসরোধও হতে পারে।তাই এই ক্ষেত্রে একটু সতর্ক থাকতে হবে।

তোকমা দানা তবে কি থাকে?

স্বাস্থ্যসচেতেন মানুষদের কাছে তোকমা দানা বেশ পরিচিত। বিভিন্ন ফলের জুস ও ফালুদা তৈরিতে তোকমা দানা ব্যবহার করা হয়।এটি প্রচুর পুষ্টি ও মিনারেল সমৃদ্ধ একটি খাবার। তোকমা দানা `সালভিয়া হিসপানিকা` নামেও পরিচিত। ছোট ডিম্বাকৃতির নরম বীজটি বিভিন্ন রঙয়ের হয় যেমন, বাদামি, কালো, সাদা ইত্যাদি। তোকমা দানায় হাইড্রোফোলিক উপাদান রয়েছে, যার কারণে খুব সহজে জল শোষণ করে নেয়। তোকমা দানা ওজনের চেয়ে বারোগুণ বেশি পারেন শোষণ করতে পারে।
প্রতি ১০০ গ্রাম তোকমা দানায় পর্যাপ্ত পরিমাণে লৌহ, ক্যালসিয়াম, থিয়ামিন, ম্যাংগানিজ, দস্তা, ফসফরাস, ভিটামিন-বি, ফোলেইট এবং রিবোফ্ল্যাভিন রয়েছে। চিকিত্‍সাবিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিদিনের ডায়েটে অল্প পরিমাণে তোকমা দানা খেতে পারেন, যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং বিপাক প্রক্রিয়া বৃদ্ধি করবে। তোকমা দানায় পর্যাপ্ত পরিমাণে আঁশ রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম তোকমা দানায় ৪০ গ্রাম খাদ্য আাঁশ পাওয়া যায়। আঁশ হজম প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পেটের পীড়া, প্রদাহ এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
আজকের আলোচনা এতোটাই ছিলো তোকমা নিয়ে।আশা করি জানতে পেরেছেন তোকমা খাওয়ার উপকারিতা ও তোকমা দানা খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত। ভালো থাকবেন আবার আসব নতুন কিছু নিয়ে ধন্যবাদ।16056
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url