প্রেগন্যান্ট হওয়ার লক্ষণ | প্রেগন্যান্ট হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ

প্রেগন্যান্ট হওয়ার লক্ষণ নানান রকম হতে পারে। তবে প্রেগন্যান্ট হওয়ার লক্ষণ সম্পর্কে অনেকেই জানতে চান তাই আজকের আর্টিকেলটি তে প্রেগন্যান্ট হওয়ার লক্ষণ ও প্রেগন্যান্ট হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ গুলো শেয়ার করা হবে।

চলুন জেনে নিই প্রেগন্যান্ট হওয়ার লক্ষণ ও প্রেগন্যান্ট হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ গুলো।

সূচিপত্র: প্রেগন্যান্ট হওয়ার লক্ষণ|প্রেগন্যান্ট হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ

প্রেগন্যান্ট হওয়ার লক্ষণ

পিরিয়ড

নারীদের প্রতি মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়ে পিরিয়ড হয়ে থাকে (সাধারণত ২৮ দিন পর পর) হয়। যদি এমন হয় যে এই নিয়মিত পিরিয়ড হঠাৎ করেই অনিয়মিত হয়ে গেছে, তবে বুঝে নিতে হবে আপনি গর্ভবতী। কিন্তু এটা ও মনে রাখতে হবে সবসময় পিরিয়ড অনিয়মিত হওয়া মানেই কিন্তু প্রেগন্যান্ট হবার লক্ষন না অনেক সময় কিছু রোগের লক্ষণ ও হতে পারে সে ক্ষেত্রে ডাক্তার দেখাতে পারেন কিন্তু পিরিয়ড যদি আপনার সবসময় এই নিয়মের মাঝেই হয়ে থাকে এবং হঠাৎ করে অনিয়মিত হয় তবে এটা প্রায় অনেকাংশেই প্রেগন্যান্সির লক্ষণ বুঝায়।

স্তনের পরিবর্তন

প্রেগন্যান্সি বুঝার উপায় হিসেবে আরেকটি লক্ষণ হল স্তনের পরিবর্তন। আপনি যদি গর্ভধারণ করেন, তা হলে স্তনের আকৃতি কিছুটা বৃদ্ধি পাবে ও নিপল গাঢ় রঙ ধারণ করবে। এবং আগের থেকে একটু বেশি ভারী মনে হবে।সেই সাথে হালকা ব্যাথা ও অনেক ক্ষেত্রে অনুভব হতে পারে।

মাথা ঘোরা ও বমি 

সাধারণ আমরা আগেকার মানুষের মুখে শুনে আসছি যে, নারীরা গর্ভবতী হওয়ার পর সকালে ঘুম থেকে উঠলে প্রচণ্ড দুর্বল, মাথা ঘোরা ও বিষণ্ন লাগে।এটি গর্ভবতী হওয়ার অন্যতম লক্ষণ।এ ছাড়া হজমে সমস্যা বা কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।তবে সেক্ষেত্রে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন ডাক্তার দেখিয়ে।

রক্তপাত

অনেক সময় দেখা যায়, পিরিয়ডের সময় খুব অল্প পরিমাণ রক্তপাত হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। এটি ও হতে পারে প্রেগন্যান্সি বুঝার উপায় হিসেবে একটি লক্ষণ।
এই বিষয়গুলো আপনি প্রেগন্যান্ট কি না তার লক্ষণ। এবং এই গুলোই প্রেগন্যান্ট হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ ও।

প্রেগন্যান্ট হলে কি করনীয়

প্রেগন্যান্সি টেস্ট এর মাধ্যমে প্রেগন্যান্ট সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর আপনার প্রাথমিক করণীয় হবে একজন ডাক্তারের বা সম্ভব হলে একজন গাইনী ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে চেকআপ করিয়ে সুনিশ্চিত হওয়া এবং ডাক্তার যেসব পরামর্শ দিবে সেসব মেনে চলা। 

গর্ভাবস্থার এই সময়টাতে সাধারণত নিচের বিষয়গুলো মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হয়:

গর্ভবতী হওয়ার প্রথম ৩ মাস বা ১২তম সপ্তাহ পর্যন্ত দৈনিক ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক এসিড সেবন করতে হবে। ফলিক এসিড ট্যাবলেট আকারে পাওয়া যায়।
দৈনিক ১০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ডি ট্যাবলেট সেবন করতে পারেন।
গর্ভাবস্থায় নানান রকম ইনফেকশনের ঝুঁকি থাকে। তাই এসময় কাঁচা বা ভালোভাবে রান্না হয়নি এমন খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। 
গর্ভের শিশুর সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে অবশ্যই ধূমপান, অতিরিক্ত চা-কফি পান, মদপান করা এড়িয়ে চলা উচিত।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সঠিক সময়

আপনার যদি কোনো মাসের পিরিয়ড বাদ যায় এবং আপনি যদি এর আগের সময়ে অনিরাপদ সহবাস করে থাকেন, অর্থাৎ কোনো জন্মনিরোধক (কনডম, পিল বা বড়ি, ইনজেকশন) ব্যবহার না করে সহবাস করে থাকেন, সেক্ষেত্রে যখনই দেখবেন যে নির্দিষ্ট তারিখে পিরিয়ড শুরু হয়নি তখনি আপনি প্রেগন্যান্সি টেস্ট করে নিতে পারেন।
পিরিয়ড শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখটি জানা না থাকলে অনিরাপদ সহবাসের কমপক্ষে ২১ দিন পরে টেস্ট করেও আপনি জেনে নিতে পারবেন আপনি গর্ভধারণ করেছেন কি না। এ ছাড়া আজকাল অনেক উন্নত প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট পাওয়া যায়, যার সাহায্যে গর্ভধারণের নয় দিন পরেই আপনি গর্ভবতী হয়েছেন কি না তা জানা সম্ভব।

প্রেগন্যান্ট হওয়ার পদ্ধতি

প্রজনন বিশেষজ্ঞের মতে, আপনার নিয়মিত যৌন সঙ্গম করা উচিত, কিন্তু রোজ নয়, কারণ শুক্রাণু সহজেই ৭ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। শুক্রাণু গড়ে তুলতে যথেষ্ট সময় দেওয়ার জন্য, যৌন সঙ্গমের ঘটনাগুলির মধ্যে পর্যাপ্ত সময়ের ফাঁক বজায় রাখতে হবে।
উপরন্তু, মাসে মাত্র ৬ দিন থাকে যখন আপনি একটি শিশুকে গর্ভে ধারণ করতে পারেন। সেটি হল ডিম্বস্ফোটনের আগের ৫ দিন, সাথে ডিম্বস্ফোটনের দিনটি।

প্রেগন্যান্ট হওয়ার উপযুক্ত সময়

গর্ভবতী হওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় হল ডিম্বস্ফোটনের সময়কালে, যে সময়কালে ডিম্বাশয় থেকে একটি পরিপক্ক ডিম মুক্ত হয়ে যায়। যদিও শুক্রাণু যৌনতার পর 48 থেকে 72 ঘন্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে, পরিপক্ক ডিম্বাণু ডিম্বস্ফোটনের পর মাত্র 12 থেকে 24 ঘন্টার জন্যই বাঁচতে পারে। এর মানে হল যে মহিলা ডিম্বাণুটি মুক্তি পাওয়ার পর মাত্র 12-24 ঘণ্টার মধ্যেই নিষিক্ত হতে পারে। অতএব, আপনার গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ানোর জন্য, ডিম্বস্ফোটনের মোটামুটি 2-3 দিন আগে যৌন সঙ্গম করা ভাল। এটি নিশ্চিত করে যে, ডিমটি অবশেষে যখন মুক্ত হয় তখন সেটিকে নিষিক্ত করার জন্য ফ্যালোপিয়ান টিউবে যথেষ্ট পরিমাণে শুক্রাণু থাকে।আপনার ডিম্বস্ফোটন কখন ঘটবে তার পূর্বাভাস পেলে, আপনার শিশু গর্ভে ধারণ করাতে অত্যন্ত সাহায্য হতে পারে।

কোনও মহিলার গড় 28-দিনের মাসিক চক্রের মধ্যে থাকলে, ডিম্বস্ফোটন শুধুমাত্র একবার ঘটে এবং সাধারণত পরবর্তী চক্রের শুরু হওয়ার প্রায় 14 দিন আগে ঘটে। যাইহোক, 28 দিনের মাসিক চক্রের মহিলারা সংখ্যালঘুদের মধ্যে পড়েন, কারণ বেশিরভাগ মহিলাদের 24 থেকে 35 দিনের মধ্যে মাসিক চক্র থাকে। যেহেতু চক্রের শেষ দিনের বা যে দিন আপনার পিরিয়ড হয় তার 14 দিন আগে ডিম্বস্ফোটন ঘটে, এর মানে হল যে 24 দিনের মাসিক চক্রের মহিলার জন্য 10তম দিনে বা 35 দিনের মাসিক চক্রের কোন মহিলার 21তম দিনে এটি হতে পারে।
নিয়মিত মাসিক চক্র যুক্ত মহিলারা প্রতি মাসে ডিম্বস্ফোটনের সময়ের পূর্বাভাস পেতে, ডিম্বস্ফোটন ক্যালকুলেটরের মতো ডিভাইস ব্যবহার করতে পারেন। উপরন্তু, আপনার ঋতু পর্যায় জুড়ে আপনার হরমোন মাত্রা পরীক্ষা করে যে ডিম্বস্ফোটন পূর্বাভাস কিট, সেটি আপনার কোন দিন ডিম্বস্ফোটন হবে তা নির্ধারণ করতে সক্ষম হবে।

আজকের মতো এতোটুকুই আশা করি আপনারা জানতে পেরেছেন প্রেগন্যান্ট হওয়ার লক্ষণ ও প্রেগন্যান্ট হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত। আজকের মতো এতোটুকুই আবার আসব নতুন কিছু নিয়ে ততদিন পর্যন্ত ভালো থাকবেন ধন্যবাদ।16056
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url