শিউলি ফুলের উপকারিতা | শিউলি ফুলের পাতার উপকারিতা

শিউলি ফুলের উপকারিতা, শিউলি ফুলের পাতার উপকারিতা সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলটি তে আমরা জানবো। শিউলি ফুলের উপকারিতা কি আসলেই আছে নাকি শিউলি ফুলের উপকারিতা নিই সেটাই জানবো এবং সাথে শিউলি ফুলের পাতার উপকারিতা ও জেনে নিবো।

তাহলে চলুন শুরু করা যাক আজকের আর্টিকেলটি।

সূচিপত্র: শিউলি ফুলের উপকারিতা| শিউলি ফুলের পাতার উপকারিতা


  • শিউলি ফুলের উপকারিতা
  • ফুলের বীজ 

শিউলি ফুলের উপকারিতা 

শিউলি ফুলকে বলা হয় ‘রাতের রানি’। রাতে ফোটে, সুবাস ছড়ায় এবং ভোরবেলা ঝড়ে পড়ে শিউলি ফুল। শিউলি ফুলের সৌন্দর্য আর মিষ্টি ঘ্রাণে বাগান, উন্মুক্ত স্থান ও বসতবাড়ির আঙিনা মেতে ওঠে সবসময়।
সকালে শিশির ভেজা শিউলি ফুল দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়। শিউলি ফুল মূলত শরতেরই ফুল। তবে শিউলি ফুলের শোভা ও সৌরভ হেমন্তেও কিছুটা থাকে।

রূপেগুণে পরিপূর্ণ শিউলি ফুল। সুবাস ছড়ানোর পাশাপাশি নানা রকম ওষুধি গুণে ভরপর শিউলি ফুল। অনেকের কাছে শিউলি ফুল খুবই প্রিয়। নানা কাজে শিউলি ফুল ব্যবহার করা হয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক শিউলি ফুলের গুণগুলো।

আর্থারাইটিস ও সাইটিকার: প্রতিদিন সকালে চায়ের মতো এক কাপ পানিতে দুটি শিউলি ফুলের পাতা ও দুটি তুলসী পাতা ফুটিয়ে, ছেঁকে নিয়ে তা পান করুন। এতে আপনার আর্থারাইটিসের ও সাইটিকার ব্যাথা কমবে। নিয়মিত কয়েক সপ্তাহ খেলে এই ব্যাথা দূর হবে।

ব্রণের সমস্যা: ব্রণ দূর করতে দারুণ কাজ করে শিউলি। কারণ শিউলি ফুলে আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটারি। যা আমাদের ত্বকের ক্ষেত্রে বিশেষ উপকারি। শিউলি ফুল মুখের ব্রণ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।

গলার আওয়াজ: কারণে-অকারণে গলার আওয়াজ বসে যেতে পারে।তবে আপনি শিউলি পাতার রস ২ চামচ পরিমিত মাত্রায় গরম করে দিনে দুইবার খেতে পারেন। উপকার পাবেন।

জ্বর কমাতে: জ্বর কমাতে বেশ সাহায্য করে শিউলি ফুল। দীর্ঘস্থায়ী জ্বর কমাতে শিউলি ফুলের চা পান করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

ম্যালেরিয়ার পর: গবেষণা দেখা গেছে, ম্যালেরিয়ার সময় শিউলি পাতার বাটা খেলে এই রোগের উপসর্গগুলো কমতে শুরু করে। ম্যালেরিয়ার প্যারাসাইটগুলো নষ্ট হয়, রক্তে প্লেটলেটের সংখ্যা বাড়ে। 

মাথার চুল বাড়ায়: শিউলি ফুলের পাতা নারকেল তেলের সঙ্গে ফুটিয়ে নিয়ে এরপর পাতা ফেলে দিয়ে তেল সংরক্ষন করুন। এই শিউলি ফুলের তেলের ব্যবহারে আপনার মাথার চুল বাড়তে পারে।তাই এটা আপনি চেষ্টা করতে পারেন।


শিউলি গাছের নির্যাস প্রাণীদের পাকস্থলিতে ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া মানব দেহে এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা গবেষণায় পাওয়া যায়নি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে শিউলি গাছের যাবতীয় অংশ সেবন করতে পারেন।

শিউলি ফুল
Nyctanthes arbor-tristis) হচ্ছে নিক্টান্থেস (Nyctanthes) প্রজাতির একটি ফুল। এটি দক্ষিণ এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব থাইল্যান্ড থেকে পশ্চিমে বাংলাদেশ, ভারত, উত্তরে নেপাল, ও পূর্বে পাকিস্তান পর্যন্ত এলাকা জুড়ে দেখতে পাওয়া যায়। এটি শেফালি নামেও পরিচিত। এই ফুল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য ফুল ও থাইল্যান্ডের কাঞ্চনাবুরি প্রদেশের প্রাদেশিক ফুল। শিউলি গাছ নরম ধূসর ছাল বা বাকল বিশিষ্ট হয় এবং ১০ মিটারের মত লম্বা হয়। গাছের পাতা গুলো ৬-৭ সেন্টিমিটার লম্বা ও সমান্তরাল প্রান্তের বিপরীতমুখী থাকে। সুগন্ধি জাতীয় এই ফুলে রয়েছে পাঁচ থেকে সাতটি সাদা বৃতি ও মাঝে লালচে-কমলা টিউবের মত বৃন্ত। এর ফল চ্যাপ্টা ও বাদামী হৃদপিণ্ডাকৃতির। ফলের ব্যাস ২ সেন্টিমিটার এবং এটি দুই ভাগে বিভক্ত। প্রতিটি ভাগে একটি করে বীজ থাকে। এই ফুল শরৎকালে ফোটে। এর ফুলগুলি রাতে ফোটে এবং সকালে ঝরে যায়। শরৎ ও হেমন্ত কালের শিশির ভেজা সকালে ঝরে থাকা শিউলি অসম্ভব সুন্দর দৃশ্য তৈরি করে।

ফুলের বীজ

নিষেকোত্তর রূপান্তরিত ও পরিস্ফুটিত ডিম্বকই বীজ। কিছু কিছু উদ্ভিদে একে কার্নেল বলা হয়। বীজ বীজ আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে এবং সাধারণত এতে পরিস্ফূটনরত ভ্রূণের জন্যে সঞ্চিত খাদ্য থাকে। বীজ আবৃতবীজী ও নগ্নবীজী উদ্ভিদে পরিপক্ব ডিম্বকের সফল নিষেক ও মাতৃগাছের অভ্যন্তরে কিছু পরিবর্ধনের ফসল। বীজ তৈরির মাধ্যমে বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার হওয়া উদ্ভিদের প্রজনন সম্পন্ন হয় (যা ফুল সৃষ্টি ও পরাগায়নের মাধ্যমে শুরু হয়), যেখানে জাইগোট থেকে ভ্রূনের সৃষ্টি হয় এবং ডিম্বাণুর বহিরাবরণ থেকে বীজত্বক সৃষ্টি হয়।


বীজ সপুষ্পক উদ্ভিদের সংখ্যাবৃদ্ধি ও বিস্তারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে আদিমতর মস ও ফার্ণের সাপেক্ষে, যারা বীজের মাধ্যমে সংখ্যাবৃদ্ধি করে না। এ ব্যাপারটিকেই সবীজ উদ্ভিদের (আবৃতবীজী ও নগ্নবীজী উভয়ই) উষ্ণ ও শীতল - দু ধরনের আবহাওয়াতেই বনভূমি থেকে শুরু করে তৃণভূমি পর্যন্ত সর্বত্রই প্রাধান্য বিস্তার করার কারণ মনে করা হয়।

বীজ শব্দটি যা কিছু বপন করা হয় তা বোঝাতেও ব্যবহার করা হয়, যেমন আলুর বীজ, সূর্যমুখীর বীজ ইত্যাদি। সূর্যমুখী এবং ভুট্টার ক্ষেত্রে বপন করা হয় খোসায় আবৃত বীজ, আর আলুর ক্ষেত্রে বপন করা হয় টিউবার।বীজ হল একটি ভ্রূণীয় উদ্ভিদ যা একটি প্রতিরক্ষামূলক বাইরের আবরণে আবদ্ধ থাকে। বীজ হল পরিপক্ব ডিম্বাণু, পরাগ দ্বারা নিষিক্ত হওয়ার পর এবং মা উদ্ভিদের মধ্যে কিছু বৃদ্ধির পর। ভ্রূণকোশ থেকে ভ্রূণ এবং ডিম্বাশয়ের ত্বক থেকে বীজের আবরণ তৈরি হয়।ব্যক্তবীজি ও গুপ্তবীজি উদ্ভিদের প্রজনন এবং সাফল্যের ক্ষেত্রে বীজগুলি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


"বীজ" শব্দের একটি সাধারণ অর্থও রয়েছে , যা উপরে উল্লেখিত - যে কোনো কিছু যা বপন করা যায়, যেমন "বীজ" আলু, ভুট্টার "বীজ" বা সূর্যমুখী "বীজ"। সূর্যমুখী এবং ভুট্টার "বীজ" এর ক্ষেত্রে, যা বপন করা হয় তা হল একটি খোসা বা ভুসিতে ঘেরা বীজ, যেখানে আলু হল একটি কন্দ। সপুষ্পক উদ্ভিদের পরিপক্ক ডিম্বাশয়ের মধ্যে বীজ থাকে। অনেক গঠন আছে যা সাধারণত "বীজ" হিসাবে উল্লেখ করা হয় , তা আসলে শুকনো ফল। সূর্যমুখী বীজ কখনও কখনও বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হয় যা ফলের শক্ত প্রাচীরের মধ্যে আবদ্ধ থাকে, যা বীজ পাওয়ার জন্য অবশ্যই বিভক্ত করতে হয়। উদ্ভিদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর অন্যান্য পরিবর্তন রয়েছে, তথাকথিত পাথরের ফল (যেমন পিচ) একটি শক্ত ফলের স্তর (এন্ডোকার্প) প্রকৃত বীজের সাথে এবং তার চারপাশে মিশে থাকে। বাদাম হল কিছু গাছের এক-বীজযুক্ত, শক্ত খোসাবিশিষ্ট ফল, যেখানে একটি অপ্রীতিকর বীজ থাকে, যেমন একটি ওক।

আজকের মতো এতোটুকুই আবার আসব নতুন কিছু নিয়ে ততদিন পর্যন্ত ভালো থাকবেন ধন্যবাদ।16056


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url