প্রেগন্যান্সি বুঝার উপায় ও কতোদিন পর প্রেগন্যান্সি বুঝা যায় বিস্তারিত

প্রেগন্যান্সি বুঝার উপায় নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পরে যাই। প্রেগন্যান্সি বুঝার উপায় নিয়ে আজকে কিছু টিপস শেয়ার করব। প্রেগন্যান্সি বুঝার উপায় এর সাথে সাথে কতোদিন পর প্রেগন্যান্সি বুঝা যায় এবং প্রেগন্যান্সি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে আজকের আর্টিকেলটি তে।

সূচিপত্র: প্রেগন্যান্সি বুঝার উপায় ও কতোদিন পর প্রেগন্যান্সি বুঝা যায় 

প্রেগন্যান্সি বুঝার উপায়

প্রেগন্যান্সি বুঝার উপায় হিসেবে অনেক রকম পদ্ধতি বা অনেক রকম লক্ষণ আছে।তার মধ্যেই কিছু জনপ্রিয় পদ্ধতি ও লক্ষণ যে গুলো অনেক কাজে আসে প্রেগন্যান্সি বুঝার। চলুন জেনে নিই প্রেগন্যান্সি বুঝার উপায় গুলো কি কি আছে। প্রথমেই কিছু প্রাথমিক লক্ষণ প্রেগন্যান্সি বুঝার উপায় গুলো দেখে নেই।

পিরিয়ড

নারীদের প্রতি মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়ে পিরিয়ড হয়ে থাকে (সাধারণত ২৮ দিন পর পর) হয়। যদি এমন হয় যে এই নিয়মিত পিরিয়ড হঠাৎ করেই অনিয়মিত হয়ে গেছে, তবে বুঝে নিতে হবে আপনি গর্ভবতী। কিন্তু এটা ও মনে রাখতে হবে সবসময় পিরিয়ড অনিয়মিত হওয়া মানেই কিন্তু প্রেগন্যান্ট হবার লক্ষন না অনেক সময় কিছু রোগের লক্ষণ ও হতে পারে সে ক্ষেত্রে ডাক্তার দেখাতে পারেন কিন্তু পিরিয়ড যদি আপনার সবসময় এই নিয়মের মাঝেই হয়ে থাকে এবং হঠাৎ করে অনিয়মিত হয় তবে এটা প্রায় অনেকাংশেই প্রেগন্যান্সির লক্ষণ বুঝায়।

স্তনের পরিবর্তন

প্রেগন্যান্সি বুঝার উপায় হিসেবে আরেকটি লক্ষণ হল স্তনের পরিবর্তন। আপনি যদি গর্ভধারণ করেন, তা হলে স্তনের আকৃতি কিছুটা বৃদ্ধি পাবে ও নিপল গাঢ় রঙ ধারণ করবে। এবং আগের থেকে একটু বেশি ভারী মনে হবে।সেই সাথে হালকা ব্যাথা ও অনেক ক্ষেত্রে অনুভব হতে পারে।

মাথা ঘোরা ও বমি 

সাধারণ আমরা আগেকার মানুষের মুখে শুনে আসছি যে, নারীরা গর্ভবতী হওয়ার পর সকালে ঘুম থেকে উঠলে প্রচণ্ড দুর্বল, মাথা ঘোরা ও বিষণ্ন লাগে।এটি গর্ভবতী হওয়ার অন্যতম লক্ষণ।এ ছাড়া হজমে সমস্যা বা কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।তবে সেক্ষেত্রে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন ডাক্তার দেখিয়ে।

রক্তপাত

অনেক সময় দেখা যায়, পিরিয়ডের সময় খুব অল্প পরিমাণ রক্তপাত হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। এটি ও হতে পারে প্রেগন্যান্সি বুঝার উপায় হিসেবে একটি লক্ষণ।

বার বার বাথরুমে যাওয়া

বার বার টয়লেট যাওয়াও গর্ভধারণের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। ওভ্যুলেশান প্রক্রিয়ার পর গর্ভধারণ সম্পন্ন হলে, দিনে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বার প্রস্রাব করতে পারেন। গর্ভাবস্থার সময় শরীরের রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এ সময় কিডনি অধিক পরিমাণে তরল নিঃসৃত করতে শুরু করে, যা প্রস্বাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে আসে।তাই এটি ও হতে পারে প্রেগন্যান্সি বুঝার উপায়।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট এর নাম 

প্রেগনেন্সি টেস্ট কিট এর নাম হলো স্ট্রিপ। এর দাম বিভিন্ন ব্র‍্যান্ডের বিভিন্ন রকম হয় এবং তা ১৫ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে হবে। প্রেগনেন্সি কিট দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট করা খুব সহজ একটা পদ্ধতি। সকালের প্রথম প্রস্রাব দিয়ে খুব সহজেই টেস্ট করা যায়। 

প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার ঘরোয়া পদ্ধতি

এখন আমরা জানবো প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে যার মাধ্যমেও জানতে পারবেন আপনি প্রেগন্যান্ট কিনা। চলুন জেনে নিই প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত।

চিনি দিয়ে প্রেগন্যান্সি টেস্ট 

রান্নাঘরের এই উপাদানটি সাহায্য করবে আপনি গর্ভবতী কিনা সেটা পরীক্ষা করার জন্য। এক টেবিল চামচ চিনির সাথে সকালের প্রথম ইউরিন মিশিয়ে নিন অর্থাৎ প্রস্রাব। কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর লক্ষ্য করুন চিনি ইউরিনের সঙ্গে মিশে গেছে কিনা? যদি মিশে যায় তবে বুঝতে পারবেন আপনি গর্ভবতী নয়, আর যদি ইউরিন জমাট বেঁধে যায় তবে আপনি বুঝতে হবে আপনি গর্ভবতী।

টুথপেস্ট দিয়ে প্রেগন্যান্সি টেস্ট 

প্রেগন্যান্সি বুঝার উপায় হিসেবে টুথপেস্ট ব্যবহার ও করতে পারেন।আপনি গর্ভবতী কিনা এটা বোঝার সবচেয়ে সহজ এবং ঘরোয়া উপায় হল টুথপেস্ট। একটি পরিষ্কার কন্টিনারে আপনার সকালের ইউরিনের(প্রস্রাব) সাথে অল্প কিছু টুথপেস্ট মিশিয়ে নিন। কিছুক্ষণ এভাবে রেখে দিন। যদি ইউরিন নীল রং ধারণ করে অথবা ফেনা উঠে যায়,তবে বুঝতে হবে আপনি গর্ভবতী। সাদা টুথপেস্ট ব্যবহার করবেন।তো টুথপেস্ট দিয়ে ও ঘরোয়া পদ্ধতিতে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা যায়।

সাবান পানি প্রেগন্যান্সি টেস্ট 

সকালের প্রথম ইউরিনের(প্রস্রাব) সাথে সাবান পানি মিশিয়ে নিন। ইউরিন এবং সাবান পানি মিশে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। যদি মিশ্রণটিতে বুদবুদ উঠে তবে আপনি গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরীক্ষাটি সবসময় সঠিক ফল দিয়ে থাকে না। এটি করার পর আপনি অন্য আরেকটি পরীক্ষা করে নিতে পারেন নিশ্চিত হতে।

ভিনেগার দিয়ে প্রেগন্যান্সি টেস্ট 

ভিনেগারে সাথে সকালের প্রথম ইউরিন(প্রস্রাব) মিশিয়ে নিন। যদি এটির রং পরিবর্তন হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে আপনি গর্ভবতী। রং অপরিবর্তিত থাকলে বুঝে নিবেন আপনি গর্ভবতী নন।

বেকিং সোডা দিয়ে প্রেগন্যান্সি টেস্ট 

বেকিং সোডা বা সোডিয়াম বাইকারবোনেট একটি উপাদান যা ব্যাপকভাবে বেকিংয়ে ব্যবহার হয় । এটা খামিরবিহীন রুটি তৈরীর জন্য বিশেষ করে দরকারী । এটি হতে পারে হিসাবে বেকিং জন্য অবিশ্বাস্য, বেকিং সোডা এছাড়াও বাড়িতে গর্ভাবস্থার পরীক্ষা করতে ব্যবহার করা যেতে পারে ।একটি পরিষ্কার বাটি,বেকিং সোডা,প্রথম প্রস্রাবের নমুনা যা আপনি সকালে পাস করেছেন।একটি বাটির মধ্যে কিছু বেকিং সোডা রাখুন, এটির উপর প্রস্রাবের ঢালুন এবং তারপর দেখুন।

অনেক বুদবুদ উঠলে এবং গেঁজে ওঠার মাধ্যমে একটি প্রতিক্রিয়া থাকলে, আপনি গর্ভবতী হতে পারে।আর কম বুদবুদ হলে আপনি গর্ভবতী নন।

ব্লিচিং পাউডার দিয়ে প্রেগন্যান্সি টেস্ট

ব্লিচিং পাউডার, লন্ড্রির জামাকাপড় কাচা এবং টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহৃত একটি পরিষ্কারকারী এজেন্ট, গর্ভাবস্থার জন্য পরীক্ষা করার একটি কার্যকর পদার্থ । ব্লিচিং পাউডারের সুবিধা হল যে ফলাফল মোটামুটি দ্রুত দেখা যেতে পারে ।গ্লাসে ব্লিচিং পাউডার যোগ করুন, গ্লাসে প্রস্রাব নমুনা ঢালুন এবং অপেক্ষা করুন ।যদি অবিলম্বে একটি ফেনা সহ গেঁজে ওঠার শব্দ শুনতে পান এবং প্রচুর বুদবুদ ও ফেনা উঠতে দেখেন তবে এটি গর্ভাবস্থার একটি ইঙ্গিত।

দ্রবণে বুদবুদ কোন উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া ছাড়া স্থায়ী হয় তাহলে আপনি গর্ভবতী নন।

লবন দিয়ে প্রেগন্যান্সি টেস্ট

প্রেগন্যান্সি বুঝার উপায় হিসেবে আপনি লবন দিয়ে ও ঘরোয়া পদ্ধতিতে টেস্ট করে নিতে পারেন।লবন দিয়ে প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিভাবে করতে হয় তা নিচে দেওয়া হল। দেখে নিন লবন দিয়ে প্রেগন্যান্সি টেস্ট:

গ্লাসে কিছু প্রস্রাবের নমুনা ঢালুন, এক বা দুই চিম্টি লবণ যোগ করুন তাতে এবং তিন মিনিটের মতো রেখে দিন ।যদি লবণটি প্রস্রাবের সাথে প্রতিক্রিয়া জানায়, তবে আপনি ক্রিমের মতো সাদা জমাট বাঁধা অংশ গঠিত হতে দেখবেন তাহলে আপনি গর্ভবতী।

আজকের মতো এতোটুকুই আশা করি আপনারা জানতে পেরেছেন প্রেগন্যান্সি বুঝার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত,তো আজকের মতো এতোটুকুই আবার আসব নতুন কিছু নিয়ে ততদিন পর্যন্ত ভালো থাকবেন ধন্যবাদ।16056

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url