প্রাথমিক চিকিৎসার জনক কে | প্রাথমিক চিকিৎসার উদ্দেশ্য কি

প্রাথমিক চিকিৎসার জনক কে আমরা প্রায় সবাই জানি আবার এমন অনেক আছেন যারা জানেন না প্রাথমিক চিকিৎসার জনক কে। আজকের আর্টিকেলটি তে আমরা জানবো প্রাথমিক চিকিৎসার জনক কে এবং প্রাথমিক চিকিৎসার উদ্দেশ্য কি সেই সম্পর্কে বিস্তারিত।

প্রাথমিক চিকিৎসার জনক কে?

প্রাথমিক চিকিৎসার জনক  ডাঃ ফ্রেডিক এজমার্ক। প্রাথমিক চিকিৎসার জনক কে সেটা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে আজকের আর্টিকেলটি তে আমরা প্রকাশ করলাম যে প্রাথমিক চিকিৎসার জনক হলেন ডাঃ ফ্রেডিক এজমার্ক। আশা করি এখন থেকে আর প্রশ্ন থাকবে না যে প্রাথমিক চিকিৎসার জনক কে।

প্রাথমিক চিকিৎসা কি?

আমরা সবাই দূর্ঘটনা শব্দের সাথে পরিচিত।আর দূর্ঘটনা এমন একটি বিষয় যা কখনো কাউকে বলে আসে না।সেই জন্য আমাদের উচিত সেই দূর্ঘটনা কিছু টা মোকাবেলা করতে প্রাথমিক চিকিৎসার সাহায্য নেওয়া।যেকোনো দূর্ঘটনায় আহত বা অসুস্থ ব্যাক্তিকে ঘটনাস্থলেই বা এর নিকটবর্তী স্থানে যে চিকিৎসা করা হয় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা বলা হয়। অনেক সময় প্রাথমিক চিকিৎসার সাহায্যে একজন রোগীকে সুস্থ করে তোলাও স্বম্ভব হয়। তাছাড়া রোগীকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেয়ার আগ মুহূর্ত্ব পর্যন্ত তাকে জীবিত রাখা বা সুস্থ রাখার জন্যেও প্রাথমিক চিকিৎসা অনেক অনেক জরুরী। আশা করি আপনারা এবার বুঝতে পারছেন যে প্রাথমিক চিকিৎসা কি।

প্রাথমিক চিকিৎসার উদ্দেশ্য কি

প্রাথমিক চিকিৎসার উদ্দেশ্য অনেক।এই প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য অনেক সময় অনেক রোগী কে প্রানে বাঁচানো সম্ভব হয়।তাই বুঝাই যাচ্ছে প্রাথমিক চিকিৎসার কতটা অবদান। এবার জানবো এই প্রাথমিক চিকিৎসার উদ্দেশ্য কি কি। তাহলে চলুন জেনে নিই প্রাথমিক চিকিৎসার উদ্দেশ্য কি:

ফার্স্ট এইড বক্স কি?

প্রাথমিক চিকিৎসা কেই ইংরেজি তে বলা হয় ফার্স্ট এইড
আর ফার্স্ট এইড বক্স বলা হয় যেই বক্স এ সব প্রাথমিক চিকিৎসার জিনিস গুলো থাকে।
যেমন ধরুন অফিস আদালতে বা কলকারখানা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ পত্রসহ একটি বক্স সাজিয়ে রাখা থাকে আর তাকেই ফার্স্ট এইড বক্স বলা হয়।

প্রাথমিক চিকিৎসার উদ্দেশ্য 

ফার্স্ট এইড বা প্রাথমিক চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য হলো তাৎক্ষণিক ব্যবস্থায় অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুকে কমিয়ে আনা। এ জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা বা ফার্স্ট এইড বক্সের কিছু উপকরণের পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণও প্রয়োজন। আমাদের দেশে প্রাথমিক চিকিৎসার বা ফার্স্ট এইড বক্স পরিচিত হলেও প্রশিক্ষণ বা সেই জরুরি মুহূর্তে করণীয় বিষয়গুলো খুব একটা পরিচিত নয়। যেকোনো পরিস্থিতিতে আমরা উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। তা কখনো কখনো সুফল বয়ে আনে বা কারও জীবন রক্ষা করতে সহায়তা করে। 
কিন্তু প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে কারও ভালো জ্ঞান বা প্রশিক্ষণ থাকলে সে দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কোনো অসুস্থতা বা আঘাতের পর করণীয় ঠিক করতে পারে,যা জীবন রক্ষা করতে পারে। বাড়িতে একটি ফার্স্ট এইড বক্স থাকলে তা অনেক রকম অসুবিধা গুলো থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে।

প্রাথমিক চিকিৎসার বক্সে কি কি থাকে

  • আঠালো ব্যান্ডেজ টেপ
  • ইলাস্টিক র‌্যাপ
  • বিভিন্ন সাইজের ব্যান্ডেজ
  • প্লাস্টার রোল
  • বাটারফ্লাই ব্যান্ডেজ
  • ত্রিভুজীয় ব্যাে
  • এন্টিসেপ্টিক টিস্যু
  • ট্যাবুলার গেজ ব্যান্ডেজ– আঙ্গুলের যখমের জন্য
  • গোলাকার টিপস সহ ধারালো সেফটি পিন
  • সুচ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার
  • তুলা, উল এবং এন্টিসেপ্টিক টিস্যুর সাথে ব্যবহৃত এন্টিসেপ্টিক লোশন
  • এন্টিবায়োটিক মলম
  • হাইড্রজেন পারঅক্সাইড
  • ল্যাটেক্স ফ্রি গ্লাভস
  • জীবানুমুক্ত ক্রিম এবং লোশন: যেমন- ডেটল, স্যাভলন
  • পেট্রোলিয়াম জেলি
  • ক্যালামাইন লোশন
  • এ্যলোভেরা জেল
  • মাসল ক্রিম এবং স্প্রে
  • স্টেরাইল গজ এবং টেপ
  • ব্যাথা নাশক
  • এন্টিহিস্টামিন- এ্যালার্জি দূরীকারক
  • ফাংগাল মেডিসিন-এন্টি ফাংগাল ক্রিম
  • ডিজিটাল থার্মোমিটার এবং জ্বরের ওষধ যেমন: এবং মৌলিক প্যারাসিটামল

প্রাথমিক চিকিৎসার বক্সের জিনিসের ব্যবহার 

*(১/২)আউন্স জীবানুমুক্ত তুলা: ক্ষত স্থানে জীবানু নাশক প্রয়োগ ও ক্ষতস্থানকে পরিষ্কার করা হয়।
*২% আয়োডিন এলকোহলিক দ্রবন: দ্রুত ক্রিয়াশীল বিস্তৃত বর্ণনীয় জীবানু বিনাশকারী দ্রবন, যা অপরিষ্কার হাতকে জীবানুমুক্ত করে। এছাড়া অক্ষত ত্বককে জীবানুমুক্ত করার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।
*৪” চওড়া রোলার ব্যান্ডিজঃ মচকে যাওয়া ও ভেঙ্গে যাওয়া স্থানে শক্তভাবে বাধানোর কাজে ব্যবহার করা হয়।যাতে করে খারাপের দিকে যেতে না পারে।
*২” চওড়া রোলার ব্যান্ডিজ: জীবানু মুক্ত গজ যা ক্ষত স্থানকে ঢেকে রাখতে ব্যবহার করা হয়।
*এডহেসিভ প্লাষ্টার: ক্ষত স্থানের উপর ব্যান্ডিজকে আটকিয়ে রাখতে ব্যবহার করা হয়।
*ত্রিকোণাকৃতি ব্যান্ডিজ: হাতের কনুই ভেঙ্গে গেলে বা মচকে গেলে ত্রিকোণাকৃতি ব্যান্ডিজ ব্যবহার করা হয়।
*সেফটি পিন: রাবার ব্যান্ডেজের ক্ষেত্রে ইহা ব্যবহার করা হয়।
*রেক্টিফাইড স্প্রিট: রক্ত বন্ধ করার জন্য এবং ক্ষত স্থানকে পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
*টর্নিকুয়েট: রক্তপাত বন্ধ করার উপকরন হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
*বাঁশের/ কাঠের চটি: ভেঙ্গে যাওয়া বা মচকে যাওয়া স্থানে বাশের চটি দিয়ে শক্ত করে বেঁেধ দিতে হয়।
*খাবার স্যালাইন: অতিরিক্ত ঘাম অথবা পাতলা পায়খানারদ্বারা পানি শূন্যতা দেখা দিলে খাবার স্যালাইন খেতে হবে।
*হেক্সিসল: হাত ও অক্ষত ত্বকের উপরে ব্যবহার করা হয়।
*গজের টুকরা: ক্ষত স্থানে জীবানু নাশক প্রয়োগে ব্যবহার করা হয়।
*সিল ক্রিম / বার্ণ ক্রিম: পুড়ে যাওয়া অংশে লাগানো হয়।
*স্যাভলন ক্রিম: ক্ষত স্থানের রক্ত ক্ষরন বন্ধ করার জন্য ব্যবহার করা হয়।
*পভিসেফ: ক্ষত স্থানকে জীবানু মুক্ত করার জন্য ব্যবহার করা হয়।
*আই ওয়াশ: চোখ পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহার করা হয়।
*সার্জারিক্যাল কাঁচি: প্রাথমিক চিকিৎসায় ব্যবহারিত উপকরনাদি কাটার জন্য ব্যবহার করা হয়।
*সার্জারিক্যাল হ্যান্ড গ্লাভস: কাটা ছিড়া সেলাই ও রক্ত পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহারিত হয়।
* ইলাষ্টিক / ওয়ান টাইম ব্যন্ডিজ: জীবানু থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ব্যবহারিত হয়।
*নিক্স: মাথা ব্যাথার উপশম হিসেবে ব্যবহারিত হয়।
*এন্টাসিড ট্যাবলেট: গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথা অনুভব হলে খেতে হবে।
*প্রচার পত্র: আহত কিংবা অসুস্থ হলে করনীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনা।
আজকের মতো এতোটুকুই আশা করছি আপনারা সবাই ভালো ভাবে জানতে পেরেছেন প্রাথমিক চিকিৎসার জনক কে এবং প্রাথমিক চিকিৎসার উদ্দেশ্য কি কি সেই সাথে প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত আবার আসব নতুন কিছু নিয়ে ততদিন পর্যন্ত ভালো থাকবেন ধন্যবাদ।16056
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url