বনধনে গাছের উপকারিতা | বনধনে বৈজ্ঞানিক নাম

বনধনে গাছের উপকারিতা জানেন না‌ এমন অনেকেই আছেন।তাই আজকের আর্টিকেলটি তে আমরা জানবো বনধনে গাছের উপকারিতা ও বনধনে গাছের সম্পর্কে বিস্তারিত। সেইসাথে বনধনে বৈজ্ঞানিক নাম ও জানবো।

সূচিপত্র:বনধনে গাছের উপকারিতা|বনধনে বৈজ্ঞানিক নাম 

বনধনে গাছ

গাছ মানুষের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হয়ে থাকে সেটা আমরা সবাই জানি। গাছের উপকারিতা নিশ্চয়ই বলে শেষ হবার নয়। মানুষ আর গাছ একে অপরের সাথে গভীর ভাবে জড়িত। মানুষ যেমন এই গাছ ছাড়া বাঁচতে পারবে না তেমনি গাছ ও মানুষ ছাড়া মূল্যহীন।তবে আমরা সবাই সাধারণ অনেকেই জানি যে একটা গাছের উপকারিতা মানেই হলো যে আমরা মানুষ সেই গাছের মাধ্যমে অক্সিজেন পাই। কিন্তু আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটা জানি না‌ যে এই গাছ দ্বারাই আমাদের অনেক রকম রোগ নিরাময় করা সম্ভব। আজকে আমরা জানবো সেই সমস্ত রোগ নিরাময় করা গাছ সম্পর্কে তার মধ্যে প্রথমেই আসে বনধনে গাছের উপকারিতা। জ্বী হ্যাঁ বনধনে গাছের উপকারিতা অনেক তবে চলুন জেনে নিই সেই গুরুত্বপূর্ণ বনধনে গাছের উপকারিতা এবং সেই সাথে বনধনে বৈজ্ঞানিক নাম।

বনধনে গাছের উপকারিতা

*প্রচন্ড পেটের ব্যাথা কমানোর অনেক কার্যকরী। ডায়রিয়া প্রতিরোধে এই গাছ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

*বনধনে গাছ হচ্ছে এমন একটি গাছ যার দ্বারা খুব কষ্টকর রোগের থেকে মুক্তি লাভ করা যায়।

*বনধন  গাছ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়।

*বনধনে গাছের পাতার রস রক্ত আমাশয়ে ভালো কাজ দেয়। তবে বয়স যত কম হবে রস তত পাতলা করে নিতে হবে। রসের পরিমাণ এক চা চামচ পরপর তিনদিন।

*ব্রাজিলে এটি অর্শরোগে ব‍্যবহৃত হয়।

*নাইজেরিয়াতে sickle-cell disease এ ব‍্যবহৃত হয়।

*মুখে ঘা হলে বনধনে পাতা চিবুলে ঘা ভালো হয়।

*মারমা উপজাতিরা শ্বাসজনিত সমস্যায় ভুগছে এমন শিশুদের বা ক্ষুধামন্দা দূর করার জন্য বনধনে পাতা, ফল ও শিকড় খেতে দেয়।

*খাসিয়া উপজাতিরা ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হলে বাচ্চাদের বনধনে গাছের রস দুই ফোটা খেতে দেয়।

*গ্যাস্ট্রিক, আলসার রোগের চিকিৎসায় বনধনে পাতার রস ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায় ।

*চোখে রক্তজমাট বাধলে এর চিকিৎসায় বনধনে পাতার রস দিনে দুইবার ব্যবহার করা হয়। 

*জ্বর, গনোরিয়া, মাথাব্যাথা, জন্ডিস, ডায়াবেটিস, আমশায়, কানব্যাথায় বনধনে গাছের ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়।

*টাঙ্গাইল জেলায় আমাশয় রোগে গুঁড়ের সাথে মিশিয়ে বনধনে পাতার রস খাওয়া হয়।

*মুরং উপজাতিরা জ্বর, রক্ত-আমাশয় ও ম্যালেরিয়া জ্বরে বনধনে পাতার রস দুই চা চামচ করে সকাল- বিকাল ০৭ দিন বা উপসম হওয়া পর্যন্ত খায়।

বনধনে বৈজ্ঞানিক নাম 

সব গাছের এই একটা বৈজ্ঞানিক নাম হয়ে থাকে। তেমনি বনধনে গাছের ও বৈজ্ঞানিক নাম রয়েছে। চলুন জেনে নেই বনধনে বৈজ্ঞানিক নাম:

বনধনে বৈজ্ঞানিক নাম হলো:Scoparia dulcis 

বনধনে গাছের গোত্রের নামঃ Scrophulariaceae

বনধনে গাছের পরিচিতি

এটি বর্ষজীবী আগ্রাসী শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট বিরুৎ শ্রেণীর আগাছা।বনধনে গাছ প্রায় ৯০ সে. মি. পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। বনধনে গাছের কান্ড কিছুটা দৃঢ়, শিরাবিশিষ্ট ও লোমবিহীন। 

বনধনে গাছের পাতাগুলো বল্লামাকৃতির, কিনারা দাঁতের মতো খাঁজকাটা। খাটো বোটা বিশিষ্ট এ পাতাগুলো কান্ডের উপর একটি অন্যটির বিপরীতে সাজানো থাকে। সাদা রঙের ছোট ছোট ফুল প্রায় ৩ সে.মি. ব্যাসার্ধবিশিষ্ট ও বোঁটাযুক্ত। বনধনে গাছে ৪ টি করে বৃতি ও পাঁপড়ি থাকে। ফল গোলাকার ধরনের, ক্যাপসুলজাতীয় ও প্রায় ০.৫ সে.মি. ব্যাসবিশিষ্ট। বনধনে গাছের বীজগুলো গোলাকার।বনধনে গাছ বর্ষা ঋতুতে অর্থাৎ মে থেকে জুন মাসে ফুল দেয়। বীজের সাহায্যে এ আগাছা বংশবিস্তার করে।

বনধনে গাছের অন্যান্য নাম

Goatweed, Sweet-broom,ফুরফুরি, তালমাকনা, বনধুনি, বন ধনিয়া, বন্দনী, চিনিগুড়া, চিনিপাতা, বাখর গাছ, মিডালি, চিনিটোরা, চিনিমিঠা। এগুলো হচ্ছে বনধনে গাছের অন্যান্য নাম।এই নামে ও অনেকের কাছে পরিচিত বনধনে গাছ।

ঔষধি গাছ

গাছ মানেই উপকারিতার আরেক নাম।গাছ আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর একটা দিক।গাছ কিন্তু শুধু অক্সিজেন দিয়ে আমাদের উপকার করে তা না,গাছ আমাদের ঔষধের ও উপকার করে থাকে। চলুন এবার জেনে নিই ঔষধি কিছু গাছ সম্পর্কে বিস্তারিত।

চিরতা

এটি অনেক স্থানে কালমেঘ নামেও পরিচিত। ডায়াবেটিস রোগীরা খেয়ে থাকেন। পাতাগুলো গুড়ো করে পানির সঙ্গে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে অনেকে খান। পেট খারাপ, ডায়রিয়া, জ্বর ও বাত ব্যথার ক্ষেত্রে সারারাত পানিতে ভিজিয়ে খাওয়া হয়।

কেশরাজ

ভারত উপমহাদেশে বহুকাল ধরেই চুলের যত্নে এই গুল্মজাতীয় গাছটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি চুল পড়া বন্ধ করতে সহায়তা করে বলে বিশ্বাস করা হয়। ড. তাহমিনা হক বলছেন, গবেষণার সময় অনেকে বলেছেন, মেয়েদের মাসিকের সমস্যায় অনেকে পাতার রস খেয়ে থাকেন। বৈজ্ঞানিকভাবে এটা ছত্রাকরোধী বা অ্যান্টিফাঙ্গাল হিসাবে প্রমাণিত হয়।

লজ্জাবতী

অনেকে একে লাজুক গাছ বা অঞ্জলিকারিকাও বলে থাকেন। এই গাছের শেকড় বেটে গুড়ো করে ডায়রিয়ার জন্য খাওয়া হয়ে থাকে। পাতা ঘা-পাঁচড়া নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করা হয়। গাছের পাতা ও ফুল বেটে শরীরের ক্ষতের স্থানে ব্যবহার করা হয়। বাতজ্বর বা হাড়ের ব্যথায়ও লজ্জাবতী গাছটি বেটে দিলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া আমাশয়, হাত-পায় জলুনির জন্য অনেকে লজ্জাবতী গাছের মিশ্রণ ব্যবহার করেন।

এমন আরও অনেক রকম ঔষধি গাছ রয়েছে আমাদের এই খুব কাছে যারা আমাদের প্রতিনিয়ত শুধু উপকারিতা দিয়েই আমাদের রেখেছে।গাছ আমাদের বন্ধু ছিল আছে আর আগামী তে ও থাকবে তাতে কোন সন্দেহ নেই,শুধু যেন আমরা তাদের বন্ধু হয়ে থাকতে পারি এটার খেয়াল আমাদের এই রাখতে হবে।আর সেই খেয়াল রাখার একমাত্র উপায় কোনো ভাবেই যেন আমি আপনি আমরা কেউ এই গাছ না কাটি।

তো এই তো ছিল আজকের আর্টিকেলটির আসল বিষয় যে বনধনে গাছের উপকারিতা কি বনধনে বৈজ্ঞানিক নাম কি সেই সম্পর্কিত। আজকের মতো এতোটুকুই আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে আবার আসব নতুন কিছু নিয়ে ততদিন পর্যন্ত ভালো থাকবেন ধন্যবাদ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url