সাদা স্রাব কি গর্ভধারণের লক্ষণ বিস্তারিত জানুন

সাদা স্রাব কি গর্ভধারণের লক্ষণ এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। সাদা স্রাব কি গর্ভধারণের লক্ষণ সেটা জানার জন্য অনেকেই আগ্রহী।

তাই আজকের আর্টিকেলটি তে আমরা জানবো সাদা স্রাব কি গর্ভধারণের লক্ষণ এবং সাদা স্রাব গর্ভাবস্থায় হলে কি সমস্যা সেই সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

সূচিপত্র: সাদা স্রাব কি গর্ভধারণের লক্ষণ? বিস্তারিত জানতে পরুন আজকের আর্টিকেলটি 

সাদা স্রাব কি গর্ভধারণের লক্ষণ?


হ্যা সাদা স্রাব গর্ভধারণের লক্ষণ হিসেবেই পরিচিত তার কার গর্ভাবস্থায় হঠাৎ করেই সাদা স্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায়।আর এই সাদা স্রাব বেরে গেলেই ধরে নিতে হবে যে আপনি বর্তমানে গর্ভাবস্থায় আছেন। তবে অনেক সময় সাদা স্রাব বারতে বা কমতে পারে অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার জন্য ও সেক্ষেত্রে আপনি একজন ভালো ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন এবং চেকআপ করতে পারেন নিশ্চিত হওয়ার জন্য।

সাদা স্রাব কি?

সাদা স্রাব আসলে মেয়েদের জন্য একটা স্বাভাবিক ব্যাপার আবার অন্যদিকে এটা অস্বাভাবিক ভাবে বারলে অনেক চিন্তার ও কারণ।মেয়েদের যোনিপথ বা মাসিকের রাস্তা দিয়ে সাদা স্রাব যাওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। মাসিক শুরু হওয়ার ১–২ বছর আগে থেকেই সাদা স্রাব যাওয়া শুরু হয় এবং মেনোপজ হওয়ার আগ পর্যন্ত সাদা স্রাব চলতে থাকে।একেক জনের ক্ষেত্রে একেক পরিমাণে সাদা স্রাব যেতে পারে। আবার একই ব্যক্তির মাসের একেক সময়ে একেক পরিমাণ স্রাব যেতে পারে।
এতে চিন্তা করার কিছু নেই।

গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিক সাদা স্রাব

গর্ভাবস্থায় প্রায় সবারই সাদা স্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই বাড়তি সাদা স্রাব জীবাণুকে যোনিপথ বা মাসিকের রাস্তা থেকে জরায়ুতে উঠে আসতে বাধা দেয়। ফলে গর্ভের সন্তান ইনফেকশন থেকে রক্ষা পায়। গর্ভাবস্থার শেষের দিকে সাদা স্রাবের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।
গর্ভাবস্থার একেবারে শেষ সপ্তাহের দিকে স্রাব জেলির মতো আঠালো হতে পারে। এসময়ে স্রাবের রঙ হয় গোলাপী। এই স্রাবকে ডাক্তারি ভাষায় ‘শো’ বলা হয়।


জরায়ুমুখে থাকা আঠালো পদার্থ বা মিউকাস যোনিপথ দিয়ে বের হয়ে আসার ফলে এই ‘শো’ দেখা যায়। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে গর্ভবতী নারীর দেহ সন্তান প্রসবের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করছে। প্রসব বেদনা শুরু হওয়ার ঠিক আগের কয়েকদিন অল্প অল্প করে এরকম ‘শো’ দেখা যেতে পারে। এতে চিন্তার কিছু নেই।

গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি সাদা স্রাব

গর্ভাবস্থায় যে ধরনের সাদা স্রাব স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ
স্বাভাবিক সাদা স্রাব পাতলা, স্বচ্ছ ও বর্ণহীন অথবা দুধের মতো সাদা হয়। এতে কোনো দুর্গন্ধ থাকে না।
সাদা স্রাবের সাথে নিচের পাঁচটি লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:
  • অস্বাভাবিক গন্ধ কিংবা দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব
  • সবুজ, হলুদ, লালচে অথবা ধূসর রঙের স্রাব
  • যোনিপথের আশেপাশে ব্যথা অথবা চুলকানি
  • প্রস্রাবের সময়ে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া হওয়া
  • যৌনাঙ্গে জ্বালাপোড়া হওয়া, লালচে হয়ে যাওয়া কিংবা চুলকানো
  • এগুলো যোনিপথে ইনফেকশনের লক্ষণ হতে পারে।

ভেজাইনাল ডিসচার্জ

এই লক্ষণকে অনেক সময় গর্ভাবস্থার সাথে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয় না, কিন্তু ভেজাইনাল ডিসচার্জ কখনও কখনও আপনাকে গর্ভবতী হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। বেশিরভাগ গর্ভবতী মহিলার প্রথম ত্রৈমাসিকে এবং গর্ভাবস্থার সময় চটচটে, সাদা রঙের ভেজাইনাল ডিসচার্জ হয়। যোনি থেকে সাদা বা দুধের মতো পাতলা, হালকা গন্ধযুক্ত স্রাব বেরোতে দেখা যায়। তবে এটি রঙ পরিবর্তন করলে তা চিন্তার কারণ হতে পারে। যোনি স্রাবের বৃদ্ধি গর্ভাবস্থার প্রাথমিক লক্ষণগুলির মধ্যে অন্যতম। এটি পুরো গর্ভাবস্থাতেই চলতে থাকে।

গর্ভাবস্থায় সাদা স্রাব

গর্ভাবস্থায় প্রায় সবারই সাদা স্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই বাড়তি সাদা স্রাব জীবাণুকে যোনিপথ বা মাসিকের রাস্তা থেকে জরায়ুতে উঠে আসতে বাধা দেয়।
গর্ভাবস্থায় সাধারণ অবস্থার চেয়ে বেশি সাদা স্রাব হওয়া স্বাভাবিক। এতে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে কিছু ক্ষেত্রে সাদা স্রাব স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।

সাদা স্রাব গেলে কি নামাজ হবে?

আগে ভালো করে বুঝতে হবে নামাজ আর সাদা স্রাব নিয়ে।গর্ভাশয় থেকে নির্গত পদার্থ যা স্বচ্ছ,হতে পারে এটি বের হওয়ার সময় কোনো মহিলা টেরও পায় না। এক মহিলা থেকে অপর মহিলার ক্ষেত্রে এটি বের হওয়ার পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে।


পক্ষান্তরে, এ তিনটি তরল (বীর্য, কামরস ও স্রাব) এর মাঝে হুকুমগত দিক থেকে পার্থক্য হচ্ছে যেমন:
বীর্য বের হলে গোসল ফরয হয়।সেটা ঘুমের মধ্যে বের হোক কিংবা জাগ্রত অবস্থায়। সহবাসের কারণে বের হোক কিংবা স্বপ্নদোষের কারণে কিংবা অন্য যে কোন কারণে।তার উপর গোসল ফরজ হয়ে যায়।

আর কামরস বা মযী নাপাক। এটি শরীরে লাগলে ধুয়ে ফেলা ফরয। কাপড়ে লাগলে কাপড় পবিত্র করার জন্য পানি ছিটিয়ে দেয়া যথেষ্ট। কামরস বের হলে ওজু ভেঙ্গে যাবে। কামরস বের হওয়ার কারণে গোসল ফরয হয় না।
সাদা স্রাব, এটি ওজু ভঙ্গকারী। তবে এটা যদি চলমানভাবে বের হতে থাকে তাহলে সে মহিলা প্রত্যেক নামাযের জন্য ওয়াক্ত হওয়ার পর নতুন করে ওজু করবে। ওজু করার পর স্রাব বের হলেও কোন অসুবিধা নেই।

কারো যদি এত বেশি সাদা স্রাব নির্গত হতে থাকে যে, কোন নামাজের সম্পূর্ন ওয়াক্তের মাঝে এত টুকু সময় বিরত হয়না যার মাঝে সে তাড়াতাড়ি করে অজুর ফরজ অংঙ্গগুলো ধুয়ে ফরজ নামাজ আদায় করতে পারে। এইভাবে হলে সেই মেয়ে মাজুর (অক্ষম) বলে গন্য হবে এবং মাজুর ব্যাক্তি প্রতি ওয়াক্ত এর জন্য অজু করব। এবং অজুর পূর্বে সাদা স্রাব ধুয়ে নিবে। এবং পাক পায়জামা পড়বে। তারপর নামাজের মাঝে সাদা স্রাব বের হলেও নামাজ ভাঙ্গবেনা, ওভাবেই নামাজ পড়ে নিবে।


এবং সাদা স্রাব বের হওয়া ছাড়া অন্য কোন অজু ভঙ্গকারী কিছু পাওয়া না যায় তাহলে এই ওয়াক্তে যত খুশি নামাজ পড়তে পারবে। কুরআন তেলাওয়াত করতে পারবে।সাদা স্রব বের হলেও মহিলারা উত্তম ভাবে ওযূ করে নামায আদায় করতে পারবে। বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী সাদা স্রাবের কারণে ওযূ ভেঙ্গে যায়। তাই উত্তম ভাবে ওযূ করে নামায আদায় করতে হবে।তাই সাদা স্রাব গেলে ও নামাজ হবে আদায় করা যায়।

সাদা স্রাব গেলে কি রোজা হবে?

রক্ত বের হওয়া বা তরল যাওয়া হলো অজু ভঙ্গের কারণ। রোজা ভঙ্গের কারণ নয়। রোজা ভঙ্গের কারণ এইসব কিছুর সাথেই সম্পর্কিত না।তবে নারীদের ঋতুস্রাব বা প্রসবোত্তর স্রাব হলে রোজা ভঙ্গ হবে। এই রোজা পরে কাজা আদায় করতে হবে।তবে কাফফারা দেওয়া লাগবে না। সুতরাং বুঝাই যাচ্ছে সাদা স্রাব গেলে কোনো ভাবেই রোজা ভঙ্গ হবে না। আজকের মতো এতোটুকুই আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে আবার আসব নতুন কিছু নিয়ে ততদিন পর্যন্ত ভালো থাকবেন ধন্যবাদ।16056
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url